গবেষণায় মূলত ‘বিগ ফোর’ নামে পরিচিত চার প্রজাতির সাপকে কেন্দ্র করা হয়েছে, কমন ক্রেইট (Common Krait), রাসেলের ভাইপার, ইকিস কারিনাটাস (সো-স্কেলড ভাইপার) এবং ভারতীয় কোবরা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 4 September 2025 11:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate change) প্রভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানীদের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বিষধর সাপের (Venomous snakes) বসবাসের অনুকূল করে তুলছে। বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বোত্তর ভারতের এমন অনেক অঞ্চলে, যেখানে এতদিন সাপের উপদ্রব খুব একটা দেখা যেত না, সেখানে সাপের কামড়ের আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে।
গবেষণায় মূলত ‘বিগ ফোর’ নামে পরিচিত চার প্রজাতির সাপকে কেন্দ্র করা হয়েছে, কমন ক্রেইট (Common Krait), রাসেলের ভাইপার, ইকিস কারিনাটাস (সো-স্কেলড ভাইপার) এবং ভারতীয় কোবরা। উপমহাদেশে সাপের কামড়ে মৃত্যুর পিছনে দায়ী মূলত এই চার ধরনের সাপ। অসমের ডিব্রু-সৈখোয়া কনজারভেশন সোসাইটি ও অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, দক্ষিণ কোরিয়ার পুকইয়ং ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় গবেষণা হয়েছে।
তাদের মডেলিং অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate change) কারণে হরিয়ানা, রাজস্থান এবং অসমে এই ধরনের সাপেদের উপযোগী বাসস্থানের বিস্তার ঘটছে। এর ফলে গ্রামাঞ্চল থেকে শহর পর্যন্ত সাপ-মানুষের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বাড়বে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মণিপুর, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল প্রদেশে আগামী দিনে সাপের অনুকূল এলাকা দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে।
বিশ্বের উষ্ণ ও উপ-উষ্ণ অঞ্চলে সাপের কামড়ে মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। ভারতের অবস্থান সেই তালিকার শীর্ষে। গবেষণা দল আগামী ৫০ বছরের জন্য একটি ঝুঁকি সূচক তৈরি করেছে, যেখানে দক্ষিণ ভারতের কর্নাটক ও গুজরাতের কয়েকটি জেলা এবং উত্তর–পূর্ব ভারতের অসম ও মণিপুরের কিছু জেলা সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে উঠে এসেছে।
গবেষকরা সতর্ক করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশের সংকট নয়, এটি ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্য সংকট হিসেবেও দেখা দিতে পারে। তাই এখনই স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একসাথে কাজ করতে হবে, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোকে সুরক্ষিত রাখা যায়।