পরিবারের দাবি, কয়েক দিন আগে খেলতে খেলতেই ওই ব্যাটারি গিলে ফেলে শিশু। কাশি না কমায় প্রথমে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে (Private Hospital)।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 28 November 2025 18:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খেলতে খেলতে গিলে ফেলা ছোট্ট বোতাম ব্যাটারিই (Battery) বিপদ ডেকে আনছিল পাঁচ মাসের এক শিশুর জন্য। কয়েক দিন ধরে নিরন্তর কাশি (Cough) ও অস্বস্তির কারণ বুঝে উঠতে পারছিলেন না পরিবারের লোকজন। শেষমেশ এক্স-রে রিপোর্টেই ধরা পড়ল, শিশুটির খাদ্যনালির ওপরে অংশে আটকে রয়েছে গোলাকার একটি বিদেশি বস্তু— একটি ‘বাটন সেল’ ব্যাটারি (Small battery retrieved)।
পরিবারের দাবি, কয়েক দিন আগে খেলতে খেলতেই ওই ব্যাটারি গিলে ফেলে শিশু। কাশি না কমায় প্রথমে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে (Private Hospital)। সেখানেই এক্সরে-তে ব্যাটারি ধরা পড়তেই দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় আমদাবাদ সিভিল হাসপাতালে।
সেখানে ইএনটি ও পেডিয়াট্রিক সার্জারির যৌথ দল তড়িঘড়ি এন্ডোস্কোপি করে ব্যাটারি বের করেন। হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট এবং পেডিয়াট্রিক সার্জারির প্রধান ডা: রাকেশ জোশি বলেন, “সময়ে ব্যাটারি বের করা না গেলে রাসায়নিকের ক্ষয়ে খাদ্যনালিতে ছিদ্র হয়ে যেতে পারত। শিশুর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে পড়ত। দ্রুত ভর্তি করানো হয়েছিল বলেই জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।”
চিকিৎসকদের মতে, ব্যাটারির রাসায়নিক লিক হয়ে খাদ্যনালির ওপরের অংশে ইতিমধ্যেই আলসার তৈরি হয়েছিল। তবে সময়মতো অস্ত্রোপচারের ফলে বড় বিপদ এড়ানো গেছে। অস্ত্রোপচারের পরে ওষুধ দিয়ে শিশুটিকে বাড়ি পাঠানো হয়। ১৫ দিন পরে ফলো-আপ এন্ডোস্কোপিতে দেখা যায়, খাদ্যনালির ক্ষত পুরোপুরি সেরে গিয়েছে।
ক'দিন আগেই দিল্লির এক কিশোরের পেট থেকে ব্লেড, ব্যাটারি, স্ক্রু-সহ প্রায় ৬৫টি বস্তু বের করা হয়েছিল। দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে পাঁচ ঘণ্টার দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণের জেরে মৃত্যু হয় ওই কিশোরের।
মৃত কিশোর উত্তরপ্রদেশের হাথরসের বাসিন্দা ছিল। পেটব্যথা এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ নিয়ে নবম শ্রেণির পড়ুয়া ওই কিশোরকে প্রথমে আগ্রা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে একাধিক হাসপাতাল ঘুরে শেষে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে। সেখানেই অস্ত্রোপচারে তার পেট থেকে বেরোয় স্ক্রু, ব্লেড, ব্যাটারির মতো আরও ৬৫টি জিনিস! কিন্তু অস্ত্রোপচার সফল হলেও শেষমেশ অন্ত্রের সংক্রমণে মৃত্যু হয় তার।
চিকিৎসকদের অনুমান, অতীতে কোনও সময় ওই জিনিসগুলি গিলে ফেলেছিল ওই কিশোর। হয়তো কোনও মানসিক সমস্যা থেকে এই স্বভাবের সূত্রপাত। তবে তার বাবা জানান, অতীতে তাঁর ছেলের কোনওরকম শারীরিক কিংবা মানসিক সমস্যা ছিল না।