উত্তরবঙ্গেও আবহাওয়ার চিত্র বদলে গিয়েছে নাটকীয়ভাবে। সান্দাকফুতে শুরু হয়েছে প্রবল তুষারপাত। প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রায় ছয় ইঞ্চি পুরু বরফে ঢেকে গিয়েছে রাস্তাঘাট। এই সময়ে এমন তুষারপাতকে অস্বাভাবিক বলেই মনে করছেন আবহবিদরা।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 21 March 2026 18:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির দাপটের মধ্যেই সিকিমকে (Weather Update Of Sikkim) ঘিরে জারি হল বড় সতর্কতা। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমগ্র সিকিম জুড়ে আছড়ে পড়তে পারে তুষারঝড় (Avalanche)। ইতিমধ্যেই ‘ডিফেন্স জিওইনফরমেটিক রিসার্চ এস্টাব্লিশমেন্ট’ (DRDO)-এর তরফে সিকিম প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে সম্ভাব্য বিপদের কথা জানিয়ে।
এই সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, শনিবার সন্ধের পর থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভয়াবহ তুষারঝড়ের কবলে পড়তে পারে সিকিমের একাধিক এলাকা। বিশেষ করে ছাঙ্গু ও নাথুলা সংলগ্ন অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বেশি। ইতিমধ্যেই বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীও নজর রাখছে পরিস্থিতির উপর।
এদিকে উত্তরবঙ্গেও আবহাওয়ার চিত্র (West Bengal Weather Update) বদলে গিয়েছে নাটকীয়ভাবে। সান্দাকফুতে শুরু হয়েছে প্রবল তুষারপাত। প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রায় ছয় ইঞ্চি পুরু বরফে ঢেকে গিয়েছে রাস্তাঘাট। এই সময়ে এমন তুষারপাতকে অস্বাভাবিক বলেই মনে করছেন আবহবিদরা। এর জেরে শতাধিক পর্যটক আটকে পড়েছেন সান্দাকফু ও সংলগ্ন এলাকায়।
পাশাপাশি উত্তর ও পূর্ব সিকিমেও তুষারপাত অব্যাহত রয়েছে। লাচেন থেকে থাঙ্গু, থাঙ্গু থেকে গুরুদোংমার - একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ইউমথাং থেকে জিরো পয়েন্টের রাস্তাও অচল। যদিও চুংথাং থেকে লাচুং ও মঙ্গনের কিছু রাস্তা খোলা রয়েছে, সেখানে হালকা যান চলাচলের উপর সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সিকিম সরকার নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, পর্যটকরা যেন আপাতত যেখানে রয়েছেন, সেখানেই অবস্থান করেন। অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়ানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ, আচমকা আবহাওয়ার অবনতিতে বিপদের আশঙ্কা বাড়ছে।
আবহবিদদের মতে, উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও দক্ষিণ উত্তরপ্রদেশের উপর তৈরি হওয়া একটি ঘূর্ণাবর্ত থেকে বিস্তৃত অক্ষরেখার প্রভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে, যা এই বৃষ্টি ও তুষারপাতের মূল কারণ।
বাংলায় ইতিমধ্যে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হচ্ছে, যার ফলে কোথাও ভারী বৃষ্টি, কোথাও ঝড় বা শিলাবৃষ্টি হচ্ছে। দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহারে আজ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে শিলাবৃষ্টির সতর্কতাও জারি হয়েছে।
মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। রবিবারও ঝড়-বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস।
সব মিলিয়ে, পাহাড় থেকে সমতল - পুরো পূর্ব ভারতে এখন প্রকৃতির রূপ বদলের নজির। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে বিপদের ইঙ্গিত, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই সতর্ক প্রশাসন।