সিকিম পর্যটন দফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পর্যটক এবং ট্যুর অপারেটরদের জন্য একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যাত্রার আগে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস এবং অ্যাডভাইসরি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 25 February 2026 12:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবল তুষারপাত (Weather Update), আর তার জেরে নাজেহাল অবস্থা সিকিম (Sikkim Snowfall) ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের। মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে গিয়ে ভোগান্তির মুখে পড়েছেন তাঁরা। বিশেষ করে যারা উত্তর বা উত্তর-পূর্ব সিকিমে (Sikkim Tourists) গেছেন, তাঁরা ব্যাপক সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। কারণ, ভারী তুষারপাতের জেরে পর্যটক বোঝাই কয়েকশো গাড়ি বরফে আটকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩,০০০ পর্যটককে উদ্ধার করেছে সেনা (Indian Army Rescue)।
শেরাথাং এবং সংলগ্ন ছাঙ্গু লেকের (Tsomgo Lake) উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে ৫৪০টির কাছাকাছি গাড়ি আটকে পড়েছিল। ১৫ মাইল থেকে ছাঙ্গুর মধ্যবর্তী রাস্তায় পুরু বরফ জমে যাওয়ায় গাড়ি চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে। ওই এলাকা থেকেই মোট ২৭৩৬ জন পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
সিকিম পর্যটন দফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পর্যটক এবং ট্যুর অপারেটরদের জন্য একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যাত্রার আগে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস এবং অ্যাডভাইসরি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। তুষারপাত প্রবণ এলাকায় ভ্রমণের সময় গাড়িতে ‘স্নো চেইন’ (Snow Chain) রাখতে হবে বাধ্যতামূলকভাবে।
মঙ্গলবার পূর্ব সিকিমে জওহরলাল নেহরু রোডের সিপসু থেকে ১৬ মাইলের মধ্যে কয়েকটি পর্যটকবাহী গাড়ি বরফে আটকে পড়েছিল। রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দেয়। খবর পেয়ে উদ্ধারকাজে নামে ভারতীয় সেনা। পুলিশ ও জিআরইএফের সহায়তায় শিশু-সহ মোট ৪৬ জন পর্যটককে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়েছে।
সিকিমের আবহাওয়া দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, দার্জিলিং ও সিকিমের পার্বত্য এলাকায় আরও কয়েক দিন একই পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। মূলত হিমালয়ের উঁচু অঞ্চলেই তুষারপাত চলবে। পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) জন্য আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস (West Bengal Weather Update), বুধবার থেকেই আকাশ পরিষ্কার হবে এবং রোদের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফের চড়তে শুরু করবে তাপমাত্রার পারদ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রাও দ্রুত বাড়বে এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিও বাড়তে পারে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গেও আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রার তেমন কোনও বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। সমতল এলাকায় জলীয় বাষ্পের কারণে ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি বজায় থাকবে।
এদিকে, উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ এখন ঘূর্ণাবর্তে পরিণত হয়ে মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। পাশাপাশি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং ওডিশা উপকূল সংলগ্ন এলাকায় আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। এছাড়াও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত হয়েছে, যা ওড়িশার উপর দিয়ে গিয়েছে।
এই সমস্ত আবহাওয়াগত পরিস্থিতির প্রভাবে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।