এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার বেঙ্গালুরুর এক সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে হঠাৎই উঠে এল সনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) নাম এবং তাঁর ‘ক্ষমতা ত্যাগ’-এর ইতিহাস (Siddaramaiah Shivakumar)।

সিদ্দারামাইয়া ও সনিয়া গান্ধী
শেষ আপডেট: 28 November 2025 19:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রী (Karnataka CM) বদলের জল্পনা ফের চড়ছে। বছরের শেষে ফের মাথাব্যথা বেড়েছে কংগ্রেসেরও। কারণ, দলের দুই শীর্ষ নেতা— মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া (Siddaramaiah) ও উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের (Shivakumar) ক্ষমতা-টানাপড়েন আবার প্রকাশ্যে।
এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার বেঙ্গালুরুর এক সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে হঠাৎই উঠে এল সনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) নাম এবং তাঁর ‘ক্ষমতা ত্যাগ’-এর ইতিহাস (Siddaramaiah Shivakumar)।
শিবকুমার বলেন, “সনিয়া গান্ধী কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন ২০ বছর। ২০০৪-এ অগ্রণী জোট জেতার পর আব্দুল কালাম তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হতে ডাকেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতা ছেড়ে মনমোহন সিংকে প্রাধান্য দেন। দেশের উন্নতির জন্য তাঁকেই এগিয়ে রাখেন।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বক্তব্য নিছক প্রশংসা নয়— বরং স্পষ্ট বার্তা, ‘ক্ষমতা ছাড়তে জানতে হয়’।
২০২৩ বিধানসভা ভোটের পর কংগ্রেসের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছিল, তার অনুযায়ী সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমারকে ২.৫ বছর করে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ভাগ করে নেওয়ার কথা ছিল। সেই অর্ধেক পথ পেরিয়েও কোনও বদলের ইঙ্গিত না মিলতেই চটেছেন শিবকুমার-অনুগামীরা।
গত এক সপ্তাহ ধরে দিল্লিতে গিয়ে দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের (Mallikarjun Kharge) সঙ্গে দেখা করা থেকে শুরু করে বিজেপির ভাষায় ‘চাপ সৃষ্টি’— সবই চলছে।
শিবকুমার নিজের ভাষাতেই ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট করেছেন। বলেছেন, “word power is world power… কথা রাখাই সবচেয়ে বড় শক্তি।”
এতদিন নীরব থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী (CM) শনিবার এক্স-এ লিখেছেন, ‘শব্দ শক্তি নয়, যদি না তা মানুষের কল্যাণে লাগে।’ মনে করা হচ্ছে, এই মন্তব্যই তাঁর ‘শান্ত’ থাকার সীমা পেরোনোর ইঙ্গিত। তবে প্রকাশ্যে তিনি এখনও বলছেন, দলের মধ্যে “বিভ্রান্তি” চলছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই চূড়ান্ত কথা দেবে।
দিল্লিও (Delhi) তটস্থ, ৮ ডিসেম্বরের আগেই নিষ্পত্তি চাই
সূত্রের খবর, খাড়্গে ইতিমধ্যেই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং জানিয়েছেন, শীতকালীন অধিবেশন (৮ ডিসেম্বর) শুরুর আগে এই বিবাদ থামাতেই হবে। বিজেপি যে কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে প্রস্তুত, তাও স্বীকার করেছে রাজ্যেরই এক বিজেপি নেতা।
এদিকে দলীয় সূত্রে খবর, গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দলীয় বিষয়ে কথা বলার জন্য বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন শিবকুমার (DK Shivakumar)। যদিও কোনওভাবে যোগাযোগ করে উঠতে পারেননি তিনি। এহেন পরিস্থিতিতে খোদ রাহুল গান্ধীর তরফে শিবকুমারের ফোনে আসে ছোট্ট একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা। যেখানে লেখা, ‘অপেক্ষা করুন, আমি আপনাকে শীঘ্রই ফোন করছি।’ রাজনৈতিক মহলের দাবি, ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে লোকসভা অধিবেশন। তার আগেই কর্নাটক মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে চলতে থাকা টানাপোড়েন শেষ করতে চান দিল্লির নেতৃত্ব।
অন্যদিকে বিজেপি (BJP) বলছে, “মুখ্যমন্ত্রী মাইসুরুতে সীমাবদ্ধ, আর উপমুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে ব্যস্ত। সরকারের কী অবস্থা, বোঝাই যাচ্ছে।”