আত্মঘাতী হওয়ার ঠিক আগে বিপঞ্জিকা নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট করেন। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে একটি হাতে লেখা চিঠিও। তাতে উঠে এসেছে নারকীয় নির্যাতনের বিবরণ।
_3.jpg.webp)
মেয়েকে নিয়ে আত্মঘাতী বধূ
শেষ আপডেট: 15 July 2025 13:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের পর থেকেই পণের জন্য নির্মম নির্যাতন করতেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। সন্তান জন্মের পরও পরিস্থিতির বদল হয়নি। এমনকি বাবার সমান শ্বশুরও অশ্লীল আচরণ করতেন, এমন একাধিক অভিযোগ এনে শারজায় বাড়িতেই মেয়েকে নিয়েই আত্মঘাতী হলেন ভিপঞ্জিকা মানি (Woman dies by suicide)।
পুলিশ সূত্রে খবর, ৩২ বছরের ভিপঞ্জিকা কেরলের বাসিন্দা ছিলেন। তবে বেশ কিছু বছর ধরে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে আরব আমরশাহীর শারজায় থাকতেন। গত ৭ জুলাই শারজার আল নাহদা এলাকায় নিজের দেড় বছরের মেয়ে বৈভবীকে সঙ্গে নিয়ে আত্মহত্যা করেন ভিপঞ্জিকা (Vipanjika Mani Death)।
এরপরই তাঁর মা বৃন্দা দেবী কেরলের কোল্লামের কুন্দারা থানায় এফআইআর দায়ের করেন (complaint filed by the mother)। মেয়ের স্বামী নিধীশ, ননদ নীতু এবং শ্বশুর- এই তিনজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা রুজু করেছে পুলিশ। অভিযোগ, মেয়েকে পণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন (physical and mental harassment over dowry-related demands)।
এদিকে, আত্মঘাতী হওয়ার ঠিক আগে ভিপঞ্জিকা নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট করেন। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে একটি হাতে লেখা চিঠিও। তাতে উঠে এসেছে নারকীয় নির্যাতনের বিবরণ।
চিঠিতে তিনি লিখেছেন, 'আমার স্বামী আমাকে প্রায়ই বলত যে সে নাকি শুধু নিজের জন্য নয় তাঁর বাবা অর্থাৎ আমার শ্বশুরের জন্যও আমাকে বিয়ে করেছে। আমাকে নিধীশ বলত, 'তুমি তো আমার বাবারও (sexual harassment by her father-in-law)।' আমাকে মারধর করত, চুল কেটে দিয়েছে। আমি আর পারছি না। ওদের ছেড়ে দিও না।
মৃতার মায়ের অভিযোগ, 'আমার মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে। ওরা বলত, তুই ফর্সা, আমরা কালো। তাই চুল কেটে ওকে কুৎসিত বানানো হয়েছিল। পণের টাকা যথেষ্ট হয়নি বলে বারবার হেনস্থা করা হত। মেয়ের সঙ্গে এমন অমানবিক অত্যাচার চলেছে, আমরা আন্দাজও করতে পারিনি।'
স্বামীর বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে থাকার অভিযোগও তুলেছিলেন বিপাঞ্জিকা। তখনই তাঁকে ডিভোর্সের নোটিসও পাঠানো হয় বলে জানা গিয়েছে। কেরল পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে।