শাবিরের শেষ লোকেশন ছিল দিল্লির শাহিনবাগ এলাকা। দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) বিশেষ সেল বর্তমানে তাঁর স্থানীয় নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছে এবং এই সফরে তাঁকে কে কীভাবে সাহায্য করেছেন তাও জানার চেষ্টা চলছে।

ভারতে নাশকতার ছক বানচাল
শেষ আপডেট: 23 February 2026 14:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শাবির আহমেদ লোন (Shabir Ahmed Lone), লস্কর-ই-তইবার (LeT) সংগঠনের সক্রিয় সদস্য থাকতেন বাংলাদেশে (Bangladesh)। ভারতেও বেশ কিছু জায়গায় তাঁর নেতৃত্বে জঙ্গি কার্যকলাপ চলত। তিনি মূলত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে (India) সন্ত্রাসের জন্য নিয়োগ করছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শাবিরের শেষ লোকেশন ছিল দিল্লির শাহিনবাগ এলাকা। দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) বিশেষ সেল বর্তমানে তাঁর স্থানীয় নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছে এবং এই সফরে তাঁকে কে কীভাবে সাহায্য করেছেন তাও জানার চেষ্টা চলছে।
পাকিস্তানের আইএসআই (ISI) এবং বাংলাদেশ-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের সহায়তায় (Bangladesh terror network) ভারতে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল হয়েই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। গতকালই কলকাতা ও তামিলনাড়ু থেকে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই গ্রেফতারির আগে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) ও তামিলনাড়ুতে (Tamilnadu) অভিযান চালানো হয়েছিল। তদন্তে দেখা গেছে, গ্রেফতারকৃতরা দিল্লিতে পাকিস্তান সমর্থক ও সন্ত্রাস সমর্থক পোস্টার লাগানো এবং ভিডিও রেকর্ড করার কাজ করছিল। বিশেষ সেলের অতিরিক্ত কমিশনার প্রমোদ সিং কুশওয়া জানিয়েছেন, ৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লির জনপথ মেট্রো স্টেশনে পোস্টার লাগানোর অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়।
২০২৫ সালের মার্চে, ওমর ফারুক নামে এক ব্যক্তি শাবিরের সঙ্গে দেখা করে এবং তাঁর নির্দেশে ভারতে সন্ত্রাস ছড়ানোর দায়িত্ব নেয়। বাংলাদেশি নাগরিকদের ব্যবহার করে ভারতে অশান্তির পরিবেশ কার্যক্রম চালাতে হবে। ফারুক কলকাতায় একটি হাইডআউট ভাড়া নিয়েছিল এবং স্থানীয় অস্ত্র জোগানের জন্য উৎস খুঁজছিল।'
৬ ফেব্রুয়ারি, ফারুক ও রোবিউল ইসলাম কলকাতা থেকে দিল্লি যায় এবং ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে দিল্লির ১০টি জায়গায় পাকিস্তান ও সন্ত্রাস সমর্থক পোস্টার লাগায়। তাদের কর্মকাণ্ডের ভিডিও শাবির আহমেদ লোনকে পাঠানো হয়। পরে তারা কলকাতায় ফিরে এই কাজ পুনরায় করে। শাবিরের সহযোগী সইদুল ইসলাম, বিদেশ থেকে তাঁকে সাহায্য করছিলেন এবং তামিলনাড়ু ভিত্তিক গ্রুপের তথ্যও সরবরাহ করছিলেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছেন, শাবির আহমেদ লোনকে ২০০৭ সালে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে তিনি তিহার জেল থেকে মুক্তি পেয়ে বাংলাদেশে (Bangladesh) চলে যান এবং সেখান থেকে ভারতীয় স্লিপার সেলগুলো (Indian Sleeper Cell) পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা করছিলেন। এই কাজে পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (ISI) তাঁকে অর্থ ও অন্যান্য নানারকম সুবিধা দিত।
পুলিশের অভিযান সময়মতো হওয়ায় ভারতে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা (Terror Plot in India) আটকানো সম্ভব হয়েছে। বিশেষ সেল এই নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে।