বারাণসীতে স্পা-র আড়ালে দেহব্যবসার অভিযোগ, বিজেপি নেত্রী শালিনী যাদবকে ঘিরে বিতর্ক। কী বলছেন বিরোধীরা?

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 4 December 2025 18:44
দ্য় ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিজের লোকসভা কেন্দ্রের একটি আবাসন থেকে বড়সড় যৌনচক্রের (sex racket) হদিশ মিলল। স্পা সেন্টারের আড়ালে চলছিল রমরমিয়ে দেহব্যবসা। ঘটনায় কাঠগড়ায় বিজেপি নেত্রী শালিনী যাদব (BJP leader Shalini Yadav)।
গত সোমবার রাতে বারাণসীর একটি ফ্ল্যাটে হানা দেয় পুলিশ। সেখানে উদ্ধার হয় ন’জন মহিলা এবং চার যুবক। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ওই ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল সেক্স ব়্যাকেট (sex racket operation)। উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মহিলাদের এনে দেহব্যবসা চালানো হত বলে মনে করছে পুলিশ। ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে বেশ কিছু আপত্তিকর সামগ্রী (objectionable materials), যা তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।
ঘটনাচক্রে, যে ফ্ল্যাট থেকে এই চক্রের হদিশ মিলেছে সেটি নথিভুক্ত রয়েছে অরুণ যাদবের (Arun Yadav) নামে। তিনিই বিজেপি নেত্রী শালিনী যাদবের স্বামী। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন, গোটা চক্রের নেপথ্যে রয়েছেন শালিনী নিজেই। তাঁরা দাবি করছেন, যৌনচক্র পরিচালনায় (sex trade involvement) এই নেত্রীর প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে।
যদিও শালিনী যাদব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “আমার নামে অহেতুক কুৎসা করা হচ্ছে। যে ফ্ল্যাটে অভিযান হয়েছে, সেটি আমার নয়। আমার বা পরিবারের কেউ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নন।” শালিনীর দাবি সত্ত্বেও বিরোধীদের দাবি, তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।
শালিনীর রাজনৈতিক যাত্রাও কম বিতর্কিত নয়। একসময় কংগ্রেস (Congress)-এ ছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে বারাণসীর মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরে ২০১৯ সালে সমাজবাদী পার্টি (Samajwadi Party)-তে যোগ দিয়ে নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধেই লোকসভা নির্বাচনে লড়েন। পরাজয়ের পর ২০২৩ সালে যোগ দেন বিজেপিতে। তবে দলে কোনও বড় পদ এখনও পাননি।
ফ্ল্যাটটি তাঁর স্বামীর নামে হওয়ায় ঘটনাটি বিজেপির জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব লোকসভা কেন্দ্রে এই ধরনের সেক্স ব়্যাকেট (sex racket bust) ধরা পড়া নিয়ে বিরোধীরা সরব। তাঁদের অভিযোগ, “বিজেপির মদতেই বারাণসীতে চলছে বেআইনি দেহব্যবসা। পুলিশ শুধু কিছু কর্মীকে ধরছে, মূল হোতারা বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মহিলাদের বয়স ২০ থেকে ৩৫-এর মধ্যে। তদন্তকারীরা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। কে বা কারা এই চক্র পরিচালনা করত, মূল মাথারা কারা- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে মানি ট্রেইল (money trail)-ও অনুসন্ধান করা হবে।
বারাণসীর এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। শালিনী যাদবের অতীত রাজনৈতিক পরিচয়, বিভিন্ন দলে যাতায়াত এবং তাঁর পরিবারের জড়িত থাকার অভিযোগ, সব মিলিয়ে বিষয়টি আগামী দিনেও প্রবল বিতর্ক তৈরি করবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।