স্বঘোষিত ধর্মগুরু চৈতন্যনন্দ সরস্বতীর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে অসভ্যতার আরও প্রমাণ মিলল! আগরা থেকে গ্রেফতারের পর সম্পত্তি ফ্রিজ, নকল কাগজ উদ্ধার।

গ্রেফতার দিল্লি বাবা।
শেষ আপডেট: 1 October 2025 11:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজেকে স্বঘোষিত ধর্মগুরু বলে পরিচয় দেওয়া স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতীর গ্রেফতারের পরে সামনে আসছে একের পর এক ভয়ঙ্কর তথ্য। পুলিশের হাতে আসছে তাঁর একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, যা থেকে উঠে এসেছে মহিলা পড়ুয়াদের শোষণ ও অশ্লীল প্রস্তাবের চিত্র।
একটি কথোপকথনে দেখা গেছে, তিনি এক মেয়েকে লিখছেন, “একজন দুবাই শেখ সেক্স পার্টনার চাইছে, তোমার কোনও সুন্দর বন্ধু আছে?” শিক্ষার্থী উত্তর দেন, “কেউ নেই।” চৈতন্যানন্দ তখন ফের জিজ্ঞাসা করেন, “কীভাবে সম্ভব? তোমার কোনও সহপাঠী? জুনিয়র?”
অন্য চ্যাটে দেখা যায়, ৬২ বছরের এই তথাকথিত ‘দিল্লি বাবা’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলছেন—“সুইটি বেবি ডটার ডল।” তিনি দিনে-রাতে অযথা বারবার মেসেজ পাঠাতেন। যেমন, “Babyyyyy” (সন্ধ্যা ৭:৪৯), “Baby where are you?” (রাত ১১:৫৯), “Good Morning Baby” (রাত ১২:৪০), “Why are you angry with me?” (রাত ১২:৪১)। এমনকি একবার লিখেছেন, “Good Evening my most beloved baby daughter doll.” শিক্ষার্থী উত্তর দেন—“Here afternoon sir, happy afternoon. Did you have something sir?”
অন্য একবার তিনি শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসা করেন—“তুমি আমার সঙ্গে শোবে না?” কিছু কথোপকথনে আবার নাচ-গানের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি লেখেন, “চলো ডিস্কো ডান্স করি।” শিক্ষার্থী ভদ্রতা দেখিয়ে উত্তর দেন, “Wow sir osm।”
রবিবার ভোররাত সাড়ে ৩টায় আগরার তাজগঞ্জ এলাকার একটি হোটেল থেকে চৈতন্যানন্দকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রায় দু'মাস ধরে তিনি পুলিশের চোখ এড়িয়ে বৃন্দাবন, মথুরা, আগরা ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, ছোট হোটেলে থাকছিলেন এবং ট্যাক্সি ব্যবহার করছিলেন, যাতে ধরা না পড়েন।
২৭ সেপ্টেম্বর তিনি আগ্রার হোটেলে ‘পার্থ সারথি’ নামে চেক-ইন করেন এবং রুম নম্বর ১০১-এ থাকছিলেন। হোটেল কর্মীদের দাবি, তিনি পুরো সময় ঘরের ভিতরেই ছিলেন।
পুলিশ জানায়, তাঁকে পাঁচ দিনের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাঁকে সেই তিনজন মেয়ের মুখোমুখিও করা হবে, যাঁরা অভিযোগ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ভয় দেখাত এবং প্রমাণ মুছে দিত।
তল্লাশিতে উদ্ধার হয় একটি আইপ্যাড, তিনটি মোবাইল ফোন, যার একটি থেকে ইনস্টিটিউটের সিসিটিভি ক্যামেরা ও হোস্টেলের দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণ করা যেত। এছাড়া পাওয়া যায় ভুয়ো ভিজিটিং কার্ড, যেখানে তাঁকে “UN Economic and Social Council-এর স্থায়ী রাষ্ট্রদূত” এবং “BRICS-এর বিশেষ দূত” হিসেবে দেখানো হয়েছে।
দু'টি পাসপোর্টও পাওয়া যায়, একটিতে নাম ‘স্বামী পার্থ সারথি’ এবং অন্যটিতে ‘স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতী’। জন্মস্থান ও পিতৃপরিচয় নিয়েও ছিল বৈপরীত্য। তাঁর সম্পত্তি হিসেবে প্রায় ৮ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছে পুলিশ। এছাড়া এফআইআর দায়ের হওয়ার পর আগস্টে তিনি ভুয়ো কাগজ ব্যবহার করে ৫০ লাখ টাকার বেশি তুলেছিলেন।
দিল্লি বাবার বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ ওঠে তাঁর প্রাইভেট ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের ছাত্রীদের কাছ থেকে। FIR-এ বলা হয়েছে, তিনি ছাত্রীদের গভীর রাতে নিজের কোয়ার্টারে ডেকে নিতেন এবং অশ্লীল মেসেজ পাঠাতেন। অন্তত ১৭ জন ছাত্রী তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন।
এই ঘটনায় দিল্লি-আগরা থেকে শুরু করে গোটা দেশেই আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ভুয়ো পরিচয়, ভণ্ডামি আর নারী শোষণের অভিযোগে এখন এই ‘দিল্লি বাবা’ পুলিশের কঠোর তদন্তের মুখোমুখি।