এক মহিলা অভিযোগে জানিয়েছেন, স্বঘোষিত ‘গুরুঠাকুর’ স্বামী পার্থসারথির দুটো চোখ ছিল শকুনের মতো।

স্বামীজি বর্তমানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
শেষ আপডেট: 26 September 2025 13:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি বাবা চৈতন্যানন্দ সরস্বতীর একের পর এক কীর্তি চোখের সামনে ভেসে উঠছে। এক মহিলা অভিযোগে জানিয়েছেন, স্বঘোষিত ‘গুরুঠাকুর’ স্বামী পার্থসারথির দুটো চোখ ছিল শকুনের মতো। তিনি তাঁর দিকে শকুনের মতো ছিঁড়ে খাওয়ার দৃষ্টিতে তাকাতেন। ২০১৬ সালে এই মহিলা অভিযোগটি করেছিলেন।
১৭ জন ছাত্রীর যৌন হেনস্তার অভিযোগে স্বামীজি বর্তমানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির বসন্তকুঞ্জে একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতেন ৬২ বছরের চৈতন্যানন্দ। মহিলার অভিযোগ, বাবা তাঁকে রাতবিরেতে অশ্লীল মেসেজ করতেন। যার কোনওটিতে লেখা থাকত বেবি। কোনওটিতে সুইট গার্ল।
এফআইআর অনুসারে মহিলার তখন বয়স ছিল ২০। শ্রী শারদা ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্টে তিনি মাত্র ৮ মাস পড়েছেন। তারপরেই এই সংস্থা ছেড়ে দেন। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, সাড়ে ৬টায় ক্লাস শেষ হওয়ার পর উনি ওনার ঘরে আমায় ডেকে পাঠাতেন এবং আমাকে নানাভাবে হেনস্তা করতেন।
চৈতন্যানন্দ নাকি তাঁকে বলতেন, তিনি খুবই প্রতিভাময়ী মেয়ে। উনি আমাকে দুবাইতে পড়ানোর জন্য নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। আমার সব খরচা উনি দেবেন বলে বলেছিলেন। আমি না চাইলেও তাঁর সংস্থার কর্মীরা আমাকে চাপ দিত। বাবা আমার মোবাইল ফোন তাঁর কাছে রেখে দিয়েছিলেন। হস্টেলে আমাকে জোর করে একা রেখে দেওয়া হয়েছিল। আমাকে কারও সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হতো না। উনি রাতের দিকে আমাকে ফোন করতেন। আমার দিকে সবসময় শকুনের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতেন, অভিযোগে বলেন মহিলা।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চৈতন্যানন্দ ওই মহিলাকে বড় হোটেলে ডিনারে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিতেন। এবং সেখানে তাঁর সঙ্গে রাতে থাকারও কথা বলতেন। মহিলা বলেন, আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। উনি আমাকে সবসময় ছোঁওয়ার চেষ্টা করতেন। যে স্পর্শ অশালীন। বাবা আমাকে বলেছিলেন, তাঁর সঙ্গে মথুরা যেতে। আমি যাইনি, পালিয়ে গিয়েছিলাম। হস্টেলে আমার সব কিছু রেখে, কাউকে কিছু না জানিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলাম। এরপরেও স্বামীজির ঘনিষ্ঠ ছাত্রীরা তাঁকে বুঝিয়েবাঝিয়ে ফেরত নিয়ে যেতে এসেছিল। বাবা ওদের আমার নম্বর ও বাড়ির ঠিকানা দিয়েছিলেন, কিন্তু আমার বাবা তাদের তাড়িয়ে দেন।
পুলিশ রেকর্ড বলছে, বাবার বিরুদ্ধে ২০০৯ ও ২০১৬ সালে অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু তিনি প্রভাব ও ক্ষমতা প্রয়োগ করে আইনের নাগাল এড়িয়ে যান। এবারের অভিযোগের উপর ভিত্তি করে পুলিশ দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও রাজস্থানে তল্লাশি চালিয়েছে। কিন্তু কোথাও তাঁর পাত্তা মেলেনি। তিনি যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, তার জন্য লুকআউট নোটিস জারি করা হয়েছে।