নতুন করে রোহতকের এসপি করা হয়েছে সুরিন্দর সিং ভোরিয়াকে। তবে বিজর্নিয়াকে আপাতত কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

ছবি: সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 11 October 2025 16:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরিয়ানার রোহতক জেলার পুলিশ সুপার নরেন্দ্র বিজর্নিয়াকে (Haryana Police Super) পদ থেকে সরিয়ে দিল রাজ্য সরকার (Haryana)। আত্মহত্যা করা আইপিএস (Haryana IPS Officer Suicide) আধিকারিক পুরণ কুমারের মৃত্যুর মামলায় তাঁর নাম ওঠার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন করে রোহতকের এসপি করা হয়েছে সুরিন্দর সিং ভোরিয়াকে। তবে বিজর্নিয়াকে আপাতত কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
সূত্রের খবর, পুরণ কুমারের স্ত্রী তথা আইএএস আধিকারিক অমনীত পুরণ কুমার অভিযোগ দায়ের করার পরেই রাজ্যের পুলিশ মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। তাঁর অভিযোগে সরাসরি নাম রয়েছে হরিয়ানার ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ শত্রুজিৎ কাপুর, রোহতকের এসএসপি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের।
অমনীতের দাবি, তাঁর স্বামীর আত্মহত্যার পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের মানসিক নিপীড়ন ও প্রশাসনিক পক্ষপাত। তিনি অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর ও গ্রেফতারের দাবি জানান, পাশাপাশি নিজের পরিবারের নিরাপত্তার ব্যবস্থাও চান। অভিযোগের ভিত্তিতে ১৩ জন আধিকারিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
এই ঘটনায় গঠিত ৩১ সদস্যের কমিটি জানিয়েছে, হরিয়ানার ডিজিপি শত্রুজিৎ কাপুরকে বরখাস্ত না করা পর্যন্ত পুরণ কুমারের ময়নাতদন্ত করা হবে না। কমিটি আরও ঘোষণা করেছে, চণ্ডীগড়ের সেক্টর ২০-এর গুরুদ্বারায় মহাপঞ্চায়েত ডাকা হবে নিহত আধিকারিকের ন্যায়বিচারের দাবিতে।
এদিকে, আইপিএস আধিকারিকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে। দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে তার জল।
কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী মৃত আধিকারিকের স্ত্রী অমনীতকে একটি চিঠি লিখে জানান, “পুরণ কুমারের মৃত্যু মনে করিয়ে দেয়, আমাদের সমাজে এখনও উচ্চপদস্থ দলিত আধিকারিকেরাও সমানাধিকারের থেকে বঞ্চিত।” তিনি আরও লেখেন, “দেশসেবায় তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের সকলের কাছে প্রেরণা হয়ে থাকবে।”
সনিয়া ছাড়াও ভূপিন্দর সিং হুডা, রণদীপ সুরজেওয়ালা এবং রাহুল গান্ধী ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছেন। রাজ্যের বিভিন্ন দলিত সংগঠন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে, অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে রাজ্যজুড়ে আন্দোলন শুরু হবে।
গত ৭ অক্টোবর চণ্ডীগড়ে নিজের বাসভবনে গুলি করে আত্মহত্যা করেন হরিয়ানার এডিজিপি ওয়াই পুরণ কুমার। তাঁর পকেট থেকে ৯ পাতার একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়, যেখানে ১২ জন আধিকারিকের নাম উল্লেখ রয়েছে।
নোটে তিনি লেখেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক পক্ষপাত, মানসিক হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছিলেন তিনি। অভিযোগ, এক ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিক তাঁকে বারবার অকারণে নোটিস পাঠিয়ে অপমান করতেন।
নোটে আরও বলা হয়েছে, একাধিক আইপিএস ও দু’জন আইএএস আধিকারিক ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর বদলি এবং মূল্যায়ন রিপোর্টে (ACR) হস্তক্ষেপ করতেন। মৃত্যুর আগে লেখা উইলে পুরণ কুমার নিজের সমস্ত সম্পত্তি স্ত্রীর নামে দিয়ে যান।
চণ্ডীগড় পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্ত কমিটি (SIT) গঠন করেছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন আইজি পুষ্পেন্দ্র কুমার। কমিটির তরফে প্রশাসনিক নিপীড়ন থেকে শুরু করে অফিসের চাপ, আত্মহত্যার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখবে বলে জানানো হয়েছে।