সুইসাইড নোট তাঁর পকেট থেকেই পাওয়া গিয়েছে। দেহের পাশে পড়ে ছিল উইল।

নিজের বাড়ির বেসমেন্টে থেকে উদ্ধার আইপিএস পূরণ কুমারের দেহ
শেষ আপডেট: 9 October 2025 14:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৭ অক্টোবর চণ্ডীগড়ে নিজের বাড়ির বেসমেন্টে থেকে উদ্ধার হয়েছে হরিয়ানার সিনিয়র আইপিএস অফিসার (Haryana IPS suicide case) ওয়াই পূরণ কুমারের (Y Puran Kumar) গুলিবিদ্ধ দেহ। জানা গিয়েছে, মৃত্যুর আগের দিন স্ত্রীকে একটি ন'পাতার আত্মহত্যাপত্র ও উইলের ড্রাফট পাঠান। তাঁর স্ত্রী অমনীত পি কুমার (IAS Amneet P Kumar), যিনি একজন সিনিয়র আইএএস অফিসার, তখন সরকারি সফরে জাপানে ছিলেন।
চিঠি ও উইল পাওয়ার পর আতঙ্কিত হতে পড়েন অমনীত। পরপর ১৫ বার কল করেন স্বামীকে, কিন্তু উত্তর মেলেনি। এরপর তিনি তাঁদের ছোট মেয়েকে ফোন করে দ্রুত বাড়িতে যাওয়ার অনুরোধ জানান। মেয়ে কেনাকাটা করতে বাইরে গিয়েছিলেন, খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ফিরে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে বেসমেন্টের রিক্লাইনার চেয়ারে নিথর অবস্থায় পড়ে রয়েছেন পূরণ।
সূত্র অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে পুরণ কুমার বাড়ির রাঁধুনিকে বলেন, তিনি বেসমেন্টে যাচ্ছেন এবং তাঁকে যেন বিরক্ত না করা হয়। বেসমেন্টে দু'টি ঘর ছিল, যার মধ্যে একটি সাউন্ডপ্রুফ হোম থিয়েটার। সকাল ১১টার দিকে তিনি উপরে উঠে খাবারের নির্দেশ দিয়ে আবার নিচে যান। দুপুর ১টা ৩০ নাগাদ সেখানেই নিজের সার্ভিস রিভলভার দিয়ে আত্মঘাতী হন।
তাঁর লেখা নোটে পূরণ কুমার ১২ জন পদস্থ এবং অবসরপ্রাপ্ত আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকের নাম উল্লেখ করেন, যাঁদের বিরুদ্ধে তিনি মানসিক হয়রানি, প্রশাসনিক পক্ষপাত ও জাতি-বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন।
বিশেষভাবে হরিয়ানার ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ শত্রুজিৎ সিং কাপুরের বিরুদ্ধে তিনি একাধিক অভিযোগ আনেন — বেতন বকেয়া আটকে রাখা, বাড়ির বরাদ্দে জটিলতা তৈরি করা, মিথ্যা হলফনামা জমা দেওয়া এবং সরকারি গাড়ি প্রত্যাহারের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে তাঁকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে হয়রানি’ করার অভিযোগ করেন পূরণ।
উল্লেখ্য, এই সুইসাইড নোট তাঁর পকেট থেকেই পাওয়া গিয়েছে। দেহের পাশে পড়ে ছিল উইল।
২০০১ ব্যাচের এই অফিসার প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁর স্পষ্ট অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, সিনিয়রিটি, এবং পুলিশ বাহিনীতে তফসিলি জাতির (এসসি) প্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে সোচ্চার হতেন।
অমনীত পি কুমার ইতিমধ্যে শত্রুজিৎ সিং কাপুর এবং রোহতকের পুলিশ সুপার নরেন্দ্র বিজর্নিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি স্বামীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ তুলে অবিলম্বে এফআইআর ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।