হরিয়ানা ক্যাডারের আইপিএস অফিসার ওয়াই পূরণ কুমারের আত্মহত্যা নাকি তার পেছনে অন্য কোনও কারণ আছে, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।

আইপিএস অফিসার ওয়াই পূরণ কুমার
শেষ আপডেট: 8 October 2025 15:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার চণ্ডীগড়ের সেক্টর-১১–এর বাড়ি থেকে হরিয়ানা ক্যাডারের আইপিএস অফিসার ওয়াই পূরণ কুমারের দেহ (IPS Puran Kumar death) উদ্ধার করা হয়। জানা গিয়েছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
২০০১ ব্যাচের এই অফিসার প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁর স্পষ্ট অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা (administrative discrimination IPS), সিনিয়রিটি, এবং পুলিশ বাহিনীতে তফসিলি জাতির (এসসি) প্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত (caste bias in police) বিষয়ে সোচ্চার হতেন।
অন্ধ্রপ্রদেশের পূরণ কুমার ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক ছিলেন। কর্মজীবনে হরিয়ানার একাধিক জেলার দায়িত্ব পালন করেছেন - এর মধ্যে অম্বালা ও কুরুক্ষেত্র জেলার পুলিশ প্রধান, পরে অম্বালা ও রোহতক রেঞ্জের আইজিপি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া হোম গার্ডস, টেলিকমিউনিকেশনস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলির নেতৃত্বে ছিলেন। ৫২ বছর বয়সি আইপিএস অফিসার ওয়াই পূরণ কুমারের অবসর নেওয়ার কথা ছিল ২০৩৩ সালে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার সঙ্গে হরিয়ানা সরকারের একাধিক প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত বিষয়ে বিরোধ তৈরি হয়।
গত বছর এপ্রিল মাসে তিনি নিজের সরকারি গাড়ি ফেরত দিয়ে বলেন, তাঁর অধিকার অনুযায়ী গাড়ি বরাদ্দ করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, হরিয়ানায় আইপিএস কর্মকর্তাদের মধ্যে 'বৈষম্যমূলক ও বাছাই করা' গাড়ি বরাদ্দ হচ্ছে। এ নিয়ে তিনি তৎকালীন মুখ্যসচিব টিভিএসএন প্রসাদকে চিঠি লেখেন।
গত বছরই তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬, ১৯৯৭ ও ২০০৫ ব্যাচের আইপিএস কর্মকর্তাদের 'অবৈধ পদোন্নতি' নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মুখ্যমন্ত্রী নায়ব সিং সাইনিকে লেখা চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, এই পদোন্নতিগুলো কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা উপেক্ষা করে কেবল অর্থ দফতরের অনুমোদনে হয়েছে।
তিনি সেই চিঠিতে আরও লেখেন, “২০০১ ব্যাচের অফিসারদের ডিআইজি পদে (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নিয়ম অনুসারে) পদোন্নতির জন্য আমি ২০২২ সালের অক্টোবরে আবেদন করেছিলাম, কিন্তু সেই আবেদন আজও ঝুলে আছে।” তিনি আরও দাবি জানিয়েছিলেন যে, তাঁদের বেতন নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা হোক এবং যথার্থ এরিয়ার দেওয়া হোক।
জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ
চিঠিতে আইপিএস পূরণ দাবি করেন, তাঁর আবেদনটি উপেক্ষা করা হয়েছে কারণ, তিনি এবং তাঁর ব্যাচমেটরা এসসি সম্প্রদায়ভুক্ত। তার অভিযোগ, রাজ্য পুলিশ প্রশাসনে এমন অনেক ফাইল যেগুলির আইনি মতামত প্রয়োজন হয় না, সেগুলিও অযথা দেরি করানোর জন্য আইন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়।
শুধু তাই নয়, ১৯৯৭ ব্যাচের আইপিএস অফিসারদের বেতন আগাম নির্ধারণ ও বাড়তি ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়, কিন্তু তাঁর নিজের পদোন্নতি ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হয় - এই কথাও জানিয়েছিলেন তাঁর চিঠিতে।
হয়রানি ও হেনস্তার অভিযোগ
২০২৩ সালে মাত্র দু'মাসের মধ্যে তিনি একজন সিনিয়র আইএএস অফিসারের বিরুদ্ধে পাঁচটি হয়রানি ও অপমানের অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি তিন সদস্যের প্রাক্তন আইএএস কমিটির গঠন নিয়েও আপত্তি তোলেন, যাঁরা তার অভিযোগ তদন্ত করছিলেন।
২০২৩-এর মার্চে পূরণকে আইজিপি (হোম গার্ডস) হিসেবে নিয়োগ করা হয়। কিন্তু অক্টোবরে তিনি মুখ্যসচিব সঞ্জীব কৌশলকে জানান, “এই পদটি হরিয়ানায় কোনও ক্যাডার পোস্ট নয়।'' তাঁর দাবি ছিল, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে এরকম কোনও পদে বসিয়ে অপমান করতে চেয়েছিল, যদিও তখন রাজ্যে আইজিপি পর্যায়ের একাধিক পদ শূন্য ছিল।
প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়ে সরব ছিলেন
২০২২ সালে তিনি সিরসা পুলিশ লাইনে অনুমোদনহীন একটি মন্দির নির্মাণের ঘটনায় ব্যবস্থা নেন, যার পর প্রশাসনিক গাফিলতির বিষয়টি সামনে আসে এবং তদন্ত শুরু হয়।
পুরণ কুমারের স্ত্রী অমনীত পি কুমার একজন সিনিয়র আইএএস অফিসার। ঘটনার সময় তিনি হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়ব সিং সাইনির নেতৃত্বাধীন সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে জাপানে ছিলেন।
চণ্ডীগড় পুলিশ এই অস্বাভাবিক ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। হরিয়ানা ক্যাডারের আইপিএস অফিসার ওয়াই পূরণ কুমারের আত্মহত্যা নাকি তার পেছনে অন্য কোনও কারণ আছে, তা নিশ্চিত করতে জোরকদমে তদন্ত চলছে।