এত ডাক্তার ছেড়ে দেওয়ার ফলে প্রবীণ চিকিৎসকদের পদ শূন্য হয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে রোগীদের চিকিৎসার মানে প্রভাব ফেলতে পারে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 15 August 2025 17:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত তিন বছরে (২০২২-২০২৪) দেশের বিভিন্ন এইমস থেকে মোট ৪২৯ জন চিকিৎসক পদত্যাগ করেছেন। সংসদে কেন্দ্র জানিয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠান ছেড়ে এঁরা বেসরকারি হাসপাতালে যোগ দিয়েছেন। সর্বাধিক ৫২ জন চিকিৎসক ছেড়েছেন এইমস দিল্লি, যা একসময়ে নতুন ডাক্তারদের কাছে ছিল স্বপ্নের গন্তব্য। ওয়াকিবহল মহলের মতে, এই সংখ্যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, দেশের অন্যতম সেরা মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠানের কঙ্কালসার চেহারা।
দিল্লির বাইরে, এইমস ঋষিকেশ থেকে ৩৮, রায়পুর থেকে ৩৫, বিলাসপুর থেকে ৩২, মঙ্গলাগিরি থেকে ৩০ ও ভোপাল থেকে ২৭ জন চিকিৎসক পদত্যাগ করেছেন।
দিল্লির এইমসে পদত্যাগকারীদের বড় অংশই ছিলেন শীর্ষপদে, কেউ বিভাগের প্রধান, সেন্টারের প্রধান বা প্রবীণ অধ্যাপক। এর মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন এইমস ডিরেক্টর ডাঃ রণদীপ গুলেরিয়া (বর্তমানে মেদান্তা হাসপাতাল), প্রাক্তন কার্ডিওলজি প্রধান ডাঃ শিব চৌধুরি (ফর্টিস এসকর্ট), প্রাক্তন নিউরোসার্জারি প্রধান ডাঃ শশাঙ্ক শরদ কালে (অ্যাপোলো), প্রাক্তন ইএনটি প্রধান ও ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাঃ অলোক ঠাক্কর, প্রাক্তন অ্যানাস্থেসিয়া (পেইন ও প্যালিয়েটিভ কেয়ার) প্রধান ডাঃ সুশমা ভাটনগর, প্রাক্তন নিউরোলজি প্রধান ডাঃ পদ্মা শ্রীবাস্তব এবং প্রাক্তন অর্থোপেডিক প্রধান ডাঃ রাজেশ মলহোত্রা।
কারণ কী?
প্রবীণ চিকিৎসকদের দাবি, নেতৃত্বের অভাব, অবিশ্বাসের পরিবেশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে গাফিলতির জন্য কাজের পরিবেশ ভেঙে পড়েছে। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত কাগজে আটকে থাকছে। এক প্রাক্তন প্রধান জানান, 'শুধু টাকার জন্য নয়, বরং কাজ করার স্বাধীনতা না থাকায় এই পদক্ষেপ।'
বেতনও বড় ফ্যাক্টর, এইমসের সিনিয়র ডাক্তার মাসে ২-২.৫ লক্ষ টাকা পান, যেখানে বেসরকারি হাসপাতালে তা ৪-১০ গুণ বেশি।
এত ডাক্তার ছেড়ে দেওয়ার ফলে প্রবীণ চিকিৎসকদের পদ শূন্য হয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে রোগীদের চিকিৎসার মানে প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে অধিকাংশ পদে রয়েছেন সহকারী অধ্যাপকরা, যাঁরা কম অভিজ্ঞ এবং অনেকেই কিছুদিন পরই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যাচ্ছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি এইমসে গত ৩ বছরে শূন্যপদ বেড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১,৩০৬টি পদের মধ্যে ৪৬২টি খালি।
নতুন এইমসগুলোতেও একই সমস্যা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। অপর্যাপ্ত বাসস্থান, গ্রামীণ এলাকায় সংযোগের অভাব, কম হাউস রেন্ট অ্যালাউন্স, মানসম্মত স্কুল, শপিং ও ইন্টারনেটের অভাব। ফলে ১২টি শাখায় অধ্যাপকের অর্ধেকেরও বেশি পদ খালি রয়েছে। প্রবীণ চিকিৎসকদের মতে, 'এআইআইএমএস সবসময় রোগীর ভরসার জায়গা হবে, কিন্তু অভিজ্ঞ ডাক্তার না থাকলে তার প্রভাব পড়বেই।'