আরজেডি নেতার হুঁশিয়ারি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। শুক্রবার ফল ঘোষণার আগে থেকেই রাজ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-এর নেতা সুনীল সিং
শেষ আপডেট: 13 November 2025 22:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগের দিনই (Bihar Election result eve 2025) রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-এর নেতা সুনীল সিং (RJD leader Sunil Singh)। তিনি অভিযোগ করেছেন, ভোট গণনার প্রক্রিয়ায় যদি সরকারি কর্মকর্তারা জনমতের রায়কে বিকৃত (Bihar election result 2025 tampered situation suspect) করার চেষ্টা করেন, তাহলে বিহারে বাংলাদেশ (Bangladesh), নেপাল (Nepal) কিংবা শ্রীলঙ্কার (Sri Lanka) মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাতে আরজেডি নেতা বলেন, “আমরা ২০২০ সালের নির্বাচনে দেখেছি, অনেক প্রার্থীকে জোর করে পরাজিত করা হয়েছিল। তাই এ বার আমি গণনা প্রক্রিয়ায় যুক্ত সব কর্মকর্তাকে সতর্ক করছি - জনতার দেওয়া রায় যদি কেউ বদলাতে চান, তাহলে বিহারের রাস্তায়ও নেপাল, বাংলাদেশ, আর শ্রীলঙ্কার মতোই দৃশ্য দেখা যাবে।”
সুনীল সিং দাবি করেছেন, আরজেডি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রতিটি বুথের ফলাফল খুঁটিয়ে দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রার্থীরা ১৪০ থেকে ১৬০টি আসনে এগিয়ে। তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বেই নতুন সরকার গঠন হবে। আমরা একদম প্রস্তুত, যদি কেউ গণনার নামে কোনও কারচুপি করার চেষ্টা করে, জনগণ তা মেনে নেবে না।”
আরজেডি নেতার হুঁশিয়ারি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। শুক্রবার ফল ঘোষণার আগে থেকেই রাজ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সুনীল সিংয়ের মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছে প্রশাসন। কিন্তু এ নিয়ে তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত নন। প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমার বিরুদ্ধে একশোটা এফআইআর হলেও আমি সত্য কথাই বলব।”
তাঁর এই মন্তব্যে শাসক জোট বিজেপি-জেডিইউ (এনডিএ) এবং বিরোধী মহাগঠবন্ধনের মধ্যে বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ এক্সিট পোল অনুযায়ী, এনডিএ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে। তবে কয়েকটি সমীক্ষা ঘন প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিতও দিয়েছে।
অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া-র এক্সিট পোল অনুযায়ী, এনডিএ ১২১ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে, আর মহাগঠবন্ধন (আরজেডি-কংগ্রেসসহ) ৯৮ থেকে ১১৮টি আসন পেতে পারে। ২৪৩ সদস্যবিশিষ্ট বিহার বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১২২টি আসন।
একই সমীক্ষা অনুযায়ী, এনডিএ-র ভোটশেয়ার ২০২০ সালের ৩৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫-এ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশে, অন্যদিকে মহাগঠবন্ধনের ভোটশেয়ার হতে পারে প্রায় ৪১ শতাংশ।
বিহারের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ফল ঘোষণার আগেই এই ধরনের “বাংলাদেশ-নেপাল তুলনা” আসলে ভোট-পরবর্তী অশান্তির আশঙ্কা তৈরি করছে, যা রাজ্যের প্রশাসনের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।