সিবালের বক্তব্য, ওই ভাষণের ভুল অনুবাদের উপর নির্ভর করেই আটকের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। আদালতে নথি পড়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোথায় সরকার উৎখাতের কথা বলেছেন ওয়াংচুক? বিচারপতির মন্তব্য, যে অভিযোগগুলি তুলে ধরা হচ্ছে, তার কিছু আদেশেই উল্লেখ নেই।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 16 February 2026 21:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)-কে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে আটক করার প্রেক্ষিতে তাঁর ভাষণের অনুবাদ ঘিরে গুরুতর অসঙ্গতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবদিহি চাইল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)। সোমবার শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানায়, অন্তত সঠিক অনুবাদ (Speech Translation) আদালতের সামনে পেশ করা প্রত্যাশিত ছিল।
বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, যে অনুবাদ রেকর্ডে জমা দেওয়া হয়েছে তা ওয়াংচুকের আসল বক্তব্যের তুলনায় অনেক দীর্ঘ এবং বিষয়বস্তুর দিক থেকেও ভিন্ন। ওয়াংচুকের আইনজীবীর দাবি, তিনি মূলত হিংসার নিন্দাই করেছিলেন। অথচ অনুবাদে সেই বক্তব্যের চরিত্র বদলে গেছে।
ওয়াংচুকের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল (Kapil Sibal) বলেন, আগের শুনানিতে তোলা গুরুত্বপূর্ণ আপত্তিগুলির জবাব দেয়নি কেন্দ্র। বিশেষ করে ২৪ সেপ্টেম্বর অনশন মঞ্চে দেওয়া একটি ভাষণ - যা আটক হওয়ার মাত্র দু’দিন আগে, সেটিকেই তিনি ‘সবচেয়ে নিকটবর্তী ঘটনা’ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
সিবালের বক্তব্য, ওই ভাষণের ভুল অনুবাদের উপর নির্ভর করেই আটকের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। আদালতে নথি পড়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোথায় সরকার উৎখাতের কথা বলেছেন ওয়াংচুক? বিচারপতির মন্তব্য, যে অভিযোগগুলি তুলে ধরা হচ্ছে, তার কিছু আদেশেই উল্লেখ নেই। এরপরই আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ - “তিনি যা বলেছেন, তার অন্তত সঠিক অনুবাদ থাকা উচিত। আপনারা যে অনুবাদ দিয়েছেন তা সাত-আট মিনিটের, অথচ তাঁর বক্তব্য ছিল তিন মিনিটের।”
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, একটি দফতর অনুবাদের কাজ করেছে। সংশ্লিষ্ট ভাষা আইনজীবীর জানা নেই বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি যুক্তি দেওয়া হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) যুগে অনুবাদ সাধারণত যথেষ্ট নির্ভুল। সিবাল তাতে কৌতুকের সুরে পাল্টা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনও কখনও বিপজ্জনকও হতে পারে; আদালতকে দেখা উচিত, আসলে কী বলা হয়েছিল, তা নয় যা তাঁর নামে আরোপ করা হয়েছে।
এর আগে কেন্দ্র দাবি করেছিল, ২৪ সেপ্টেম্বর লেহ-তে সংঘটিত হিংসার ঘটনায়, যাতে চার জনের মৃত্যু ও বহু মানুষ আহত হন, ওয়াংচুকই ছিলেন ‘প্রধান প্ররোচনাকারী’। সরকারের বক্তব্য, এনএসএ অনুযায়ী সব প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা মানা হয়েছে এবং তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে।
ওয়াংচুকের স্ত্রীর তরফে আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করে বলা হয়েছে, তিনি বরাবরই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পক্ষে সওয়াল করেছেন এবং হিংসার নিন্দা করেছেন। সিবাল আদালতে আরও বলেন, বহু বছর ধরে ওয়াংচুকের আন্দোলন হিংসায় গড়ায়নি; একটি নির্বাচনী ইস্তেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়াতেই অনশনকে গণতান্ত্রিক পন্থা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
তিনি আটককারী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ‘মনোনিবেশের অভাব’-এর অভিযোগ তোলেন এবং আদেশের কিছু অংশকে ‘কপি-পেস্ট’ বলেও মন্তব্য করেন। সরকারের কাছে নতুন করে সুযোগ না দিয়ে ইতিমধ্যে জমা দেওয়া উপাদানের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আবেদন জানান তিনি।