ঘটনাটি ঘটেছিল ধামতরির কুরুদ থানার এলাকায়। অভিযোগ, ১৫ বছর বয়সি এক স্কুলছাত্রীকে বাড়ি ফেরার সময় অভিযুক্ত যুবক ‘আই লাভ ইউ’ বলে।

ছত্তীসগড় হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 28 July 2025 19:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘আই লাভ ইউ’ (I Love You) বলার মতো কথায় যদি যৌন অভিপ্রায় প্রমাণিত না হয়, তবে সেটিকে যৌন হেনস্থা বলে ধরা যাবে না, এই পর্যবেক্ষণ দিয়ে ছত্তীসগড় (Chhattisgarh High) হাইকোর্ট সম্প্রতি এক যুবককে পকসো এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের আওতায় আনা মামলায় মুক্তি দিল।
বিচারপতি সঞ্জয় এস আগরওয়ালের একক বেঞ্চ ট্রায়াল কোর্টের রায় বহাল রেখে রাজ্য সরকারের আপিল খারিজ করে দেন। তিনি জানান, অভিযুক্তের অভিপ্রায় বা নাবালিকার বয়স— এই দু'টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই যথেষ্ট প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকারপক্ষ।
ঘটনাটি ঘটেছিল ধামতরির কুরুদ থানার এলাকায়। অভিযোগ, ১৫ বছর বয়সি এক স্কুলছাত্রীকে বাড়ি ফেরার সময় অভিযুক্ত যুবক ‘আই লাভ ইউ’ বলে। মেয়েটির আরও অভিযোগ, এর আগেও একাধিকবার সে যুবক তাকে উত্যক্ত করেছে। এরপর পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ডি (অনুসরণ করে হেনস্থা), ৫০৯ (নারীর লজ্জা ভঙ্গ) ধারা, পকসো আইনের ৮ নম্বর ধারা এবং তফশিলি জাতি-উপজাতি আইনের ৩(২)(ভা) ধারায় মামলা করে।
তবে ট্রায়াল কোর্ট অভিযুক্তকে প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস দেয়। সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার হাইকোর্টে গেলে, সেখানেও বিচারক বলেন— অভিযুক্ত ও তার বন্ধুদের বয়ানে যৌন অভিপ্রায় স্পষ্ট নয়। এমনকি, অভিযুক্ত মেয়েটির জাত সম্বন্ধে জানত, এমন কোনও প্রমাণও মেলেনি। ফলে এসসি/এসটি আইনের প্রয়োগও ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন বিচারক।
বিচারপতি আগরওয়াল আরও বলেন, একটা ‘আই লাভ ইউ’ বলার ঘটনা, যেখানে না রয়েছে বারবার যোগাযোগ, না কোনও ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ— তাকে পকসো আইনে যৌন হেনস্থা বলে ধরা যায় না। তিনি সুপ্রিম কোর্টের ২০২১ সালের Attorney General for India vs Satish মামলার রায়ের উল্লেখ করে বলেন, স্পষ্ট যৌন অভিপ্রায় ছাড়া কোনও আচরণকে পকসো আইনের ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী যৌন হেনস্থা বলা চলে না।
এছাড়া মামলায় মেয়েটির বয়স যাচাই না করাকেও হাইকোর্ট তীব্রভাবে সমালোচনা করে এবং গোটা তদন্তকে ঢিলেঢালা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলেও আখ্যা দেয়। শেষ পর্যন্ত, প্রমাণের অভাবে অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না বলে রায় দেয় আদালত। ফলে নিম্ন আদালতের রায় বহাল থেকে যায়, এবং রাজ্য সরকারের আপিল খারিজ হয়।