বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি উর্মিলা জোশি-ফালকে সোমবার মামলার রায়ে বলেন, কোনও যৌনকর্ম হল- অশালীন স্পর্শ, জোর করে বস্ত্রহরণ, অসদুদ্দেশ্যমূলক আচরণ অথবা মন্তব্য, যা কোনও মহিলার সম্মানহানি করে।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 1 July 2025 18:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাউকে ‘আই লাভ ইউ’ বলা হল নিজের ভালবাসার অনুভূতি অন্যের কাছে প্রকাশ করা। এর মধ্যে যৌন কোনও অভিপ্রায় নেই। বম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চ এই যুক্তিতে ৩৫ বছরের এক অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস করে দিয়েছে। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল যে, তিনি এক কিশোরীকে হেনস্তা করেছিলেন।
বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি উর্মিলা জোশি-ফালকে সোমবার মামলার রায়ে বলেন, কোনও যৌনকর্ম হল- অশালীন স্পর্শ, জোর করে বস্ত্রহরণ, অসদুদ্দেশ্যমূলক আচরণ অথবা মন্তব্য, যা কোনও মহিলার সম্মানহানি করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নাগপুরের ১৭ বছরের এক নাবালিকার হাত ধরে ওই ব্যক্তি তাকে ‘আই লাভ ইউ’ বলেছিলেন। এই অপরাধে নাগপুরের একটি নিম্ন আদালত ওই ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে। তৎকালীন ভারতীয় দণ্ডবিধি ও পকসো আইনে ২০১৭ সালে ওই ব্যক্তিকে তিন বছরে কারাবাসের সাজা ঘোষণা করে আদালত।
ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্ট তাঁকে সাজা থেকে মুক্ত করে জানায়, প্রাতিবেশিক কোনও ঘটনা পরম্পরায় এর সপক্ষে যুক্তি মিলছে না যে, তিনি কিশোরীর সঙ্গে কোনও যৌন কর্মে লিপ্ত হওয়ার অভিপ্রায়ে এই কাজ করেছিলেন। সুতরাং, শুধুমাত্র আই লাভ ইউ বলার মধ্যে কোনও অসৎ কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
আদালত মনে করে, আই লাভ ইউ বলার পিছনে কোনও যৌন উদ্দেশ্য রয়েছে এরকম কিছু নিশ্চই থাকতে হবে। কিন্তু, মেয়েটি যখন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল তখন তার হাত ধরে আই লাভ ইউ বলার মধ্যে সেরকম কোনও অভিপ্রায় ছিল বলে প্রমাণ হচ্ছে না। মেয়েটি বাড়ি ফিরে তার বাবাকে পুরো ঘটনাটি জানায়। এবং ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করে পরিবার।