কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কিংবা পাকিস্তানের সরাসরি নাম না করে তীক্ষ্ণ ভাষায় আক্রমণ করেন মোদী।

গান্ধীনগরে রোড শোয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
শেষ আপডেট: 27 May 2025 13:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবারের পর মঙ্গলবারও পহলগাম ও অপারেশন সিঁদুর, পাকিস্তানের জঙ্গি মদত এবং একই তিরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে বিদ্ধ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অপারেশন সিঁদুরের পর সোমবার প্রথমবার গুজরাতে পা রাখেন প্রধানমন্ত্রী। ভদোদরার পর এদিন গান্ধীনগরে এক রোড শোয়ের পর জনসভা করেন মোদী। সেখানে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কিংবা পাকিস্তানের সরাসরি নাম না করে তীক্ষ্ণ ভাষায় আক্রমণ করেন মোদী। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আজকের দুর্দশা নিয়ে সরাসরি কংগ্রেস ও পরোক্ষে জওহরলাল নেহরুর দুর্বল নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। বলেন, সর্দার প্যাটেল (সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও গুজরাতের ভূমিপুত্র) তখনই চেয়েছিলেন পাকিস্তানের দখল করা কাশ্মীর সেনা নামিয়ে পুনর্দখল করতে। কিন্তু, তাঁকে তা করতে দেওয়া হয়নি।
মোদী বলেন, সর্দার প্যাটেল তখনই চেয়েছিলেন যুদ্ধবিরতি না করে সেনা নামিয়ে দখলীকৃত কাশ্মীর পুনরুদ্ধার করতে। কিন্তু তাঁর সেই পরামর্শকে উপেক্ষা করা হয়েছিল। পাকিস্তান ও তাদের সরকারি মদতে পুষ্ট জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ে মোদী বলেন, শরীর কত সুস্থ-সবল তার উপর সুস্বাস্থ্য নির্ভর করে না। শরীরে যদি একটা ছোট কাঁটাও ঢুকে থাকে, তাহলে তার যন্ত্রণা বয়ে বেড়ানো মুশকিল হয়ে পড়ে। গোটা শরীরকে তা সবসময় কষ্ট দেয়। তাই এবার আমরা ঠিক করেছি, সেই কাঁটা উপড়ে ফেলে দেব।
পাকিস্তানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভারত দুরকম বিদেশনীতি নিয়ে চলে। দেশ চায় শান্তি। কিন্তু কেউ যদি শান্তি নষ্ট করতে চায়, তাহলে ভারত তার শক্তি প্রদর্শনেও পিছপা হবে না। তাঁর কথায়, আমরা শান্তিতে থাকতে চাই, অন্যরাও শান্তিতে থাকুক তাও চাই। কিন্তু আমাদের সামর্থ্যকে চ্যালেঞ্জ জানালে আমরা চুপ করে থাকব না। জঙ্গিদের দিয়ে পাকিস্তান ছায়াযুদ্ধ চালাতে চায় না, এটাই ওদের যুদ্ধের কৌশল।
সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল প্রসঙ্গে মোদীর ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য, এখনও আমরা তেমন বড় কিছু করিনি। কিন্তু তাতেই অন্যরা ঘেমেনেয়ে সারা হচ্ছে। আমরা আমাদের বাঁধের জলধারণ ক্ষমতা বাড়াচ্ছি পলি সংস্কার করে। আর এতেই কোথাও কোথাও ভেসে যাবে। আমরা কিছু না করেই অন্যদের ঘামিয়ে দিয়েছি। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর প্রশ্নের উল্লেখ না করেই মোদী বলেন, এবার আমাদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে না। ভগবান নিজেই প্রমাণ হাজির করে দিয়েছেন। গতকাল আমি ভদোদরা, দাহোদ, ভুজ, আমদাবাদে গিয়েছিলাম। আজ আমি গান্ধীনগরে এসেছি। যেখানেই গিয়েছি দেখেছি সিঁদুরের সাগর বয়ে গিয়েছে। জ্বলজ্বল করছে তেরঙা। এটাই দেশের মানুষের দেশভক্তির প্রমাণ। মাতৃভূমি ও দেশাত্মবোধ মনের ভিতর থাকলে এরকমই হয়। এটা শুধু গুজরাতের ছবি নয়, প্রতিটি ভারতবাসীর মনের কথা।