দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে ভোটে দাঁড়ানো যাবে না—এই নিয়মই চরম পথে ঠেলে দিলেন ব্যক্তিকে। আসন পাওয়ার লোভে মেয়েকে জলে ফেলে মারলেন তিনি।
.jpeg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 February 2026 11:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্থানীয় পঞ্চায়েত ভোটে দাঁড়ানোর ‘যোগ্যতা’ পেতেই নিজের ছ’বছরের মেয়েকে খুন করার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মহারাষ্ট্র (Maharashtra)–তেলঙ্গানা (Telangana) সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় এই নৃশংস ঘটনায় রীতিমতো স্তম্ভিত প্রশাসন।
পুলিশ জানাচ্ছে, অভিযুক্ত ২৮ বছরের, মহারাষ্ট্রের কেরুর গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় সেলুনকর্মী। আসন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে সরপঞ্চ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছিলেন বেশ কিছুদিন ধরে। কিন্তু মহারাষ্ট্রে স্থানীয় নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য দুই সন্তানের বেশি থাকলে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। এই আইনই তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
অভিযোগ, তিন সন্তানের বাবা হওয়ায় তিনি প্রথমে ছেলের জন্মসনদ বদলানোর চেষ্টা করেন। এমনকি পুণে কর্পোরেশন অফিসেও গিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যর্থ হন। এরপরই ভয়াবহ পরিকল্পনা করেন।
বাইকে করে নিয়ে গিয়ে ক্যানালে ফেলে হত্যা
পুলিশ জানায়, গত ২৯ জানুয়ারি অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের ছ’বছরের মেয়েকে বাইকে চাপিয়ে মহারাষ্ট্র থেকে তেলঙ্গানার দিকে রওনা দেন। প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে নিজামাবাদ এলাকায় একটি ক্যানালে শিশুটিকে ছুঁড়ে ফেলা হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্যানালে মেয়েটির দেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
ছবির মাধ্যমে মৃত শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত হয়। তদন্তে জানা যায়, মেয়েটি ওই ব্যক্তিরই সন্তান। ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ওই ব্যক্তি ও গ্রামের বর্তমান সরপঞ্চ—দু’জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
খুনের ধারায় মামলা, তদন্তে নতুন মোড়
নিজামাবাদ পুলিশের কমিশনার পি সাই চৈতন্য জানান, শুরুতে অপমৃত্যুর মামলা হলেও তদন্তে নৃশংস সত্য সামনে আসায় খুন, অপহরণ সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য, ভোটে দাঁড়ানোর জন্য এক বাবার এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত শুধু আইনভঙ্গ নয়, সামাজিক মূল্যবোধেরও চরম বিপর্যয়। তদন্ত এখনও চলছে, ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।