গত কয়েকমাস ধরে উপত্যকায় লুকিয়ে থাকা জইশ জঙ্গিদের (Jaish Terrorist) খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী।

নিহত জইশ কমান্ডার সইফুল্লা
শেষ আপডেট: 23 February 2026 15:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৭ বার সেনার চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেরিয়েছে, গা ঢাকা দিতে কেটে ফেলেছিল দাড়ি, সেই ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জইশ-এ-মহম্মদ জঙ্গি সইফুল্লা (Saifullah) রবিবার জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) কিশ্তওয়ারে সেনা, পুলিশ ও সিআরপিএফের যৌথ অপারেশনে নিহত হয়।
গতকাল কিশ্তওয়ারের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে জইশের (Pakistan-based Jaish-e-Mohammad) সাতজন জঙ্গিকে নিকেশ করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। তাদেরই একজন সংগঠনের শীর্ষ কমান্ডার সইফুল্লা। এর আগে বহুবার নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেও পালিয়ে যেতে সফল হয়েছিল।
এই সংঘর্ষের সময়ে জঙ্গিরা যে গুহায় লুকিয়ে ছিল তা আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। সাতজনেরই ঝলসে মৃত্যু হয়েছে।
সইফুল্লা একজন পাক নাগরিক ছিল। পাঁচ বছর আগে জম্মু-কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir Terror activities) এসেছিল সইফুল্লা। এখানেই জইশ শিবিরে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এরপর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হওয়া একাধিক হামলায় যুক্ত ছিল সে, যার মধ্যে ২০২৪-এর জুলাইয়ে চার সেনার নিহত হওয়ার ঘটনা অন্যতম।
গত কয়েকমাস ধরে উপত্যকায় লুকিয়ে থাকা জইশ জঙ্গিদের (Jaish Terrorist) খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী। এমনই এক অভিযানে নিহত হয় সইফুল্লার 'ডান হাত' আদিল। এরপরই জম্মু-কাশ্মীর ছাড়ার পরিকল্পনা করছিল সইফুল্লা। তাকে যাতে শনাক্ত করা না যায় সেই কারণে দাড়ি কেটে ফেলেছিল। বেশ কয়েকদিন জঙ্গলে লুকিয়েই উপত্যকা ছাড়ার পরিকল্পনা করছিল। রবিবার যৌথ অভিযানে ওই জঙ্গলেই তল্লাশি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। সেখানে মৃত্যু হয় সইফুল্লার।
অভিযান শেষে জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় দু’টি একে-৪৭ রাইফেল (AK 47 Rifel), বিপুল পরিমাণ গুলি এবং অন্যান্য সামগ্রী। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ‘লুকোচুরি’ খেলছিল জঙ্গিরা, ভারতীয় সেনার প্রশিক্ষিত কুকুর টাইসনের তৎপরতায় শেষমেশ তাদের খোঁজ মেলে।
সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় সেনার (Indian Army) ২ প্যারা (স্পেশাল ফোর্সেস)-এর প্রশিক্ষিত জার্মান শেফার্ড টাইসন এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তৈরি জঙ্গিদের লুকানো ডেরায় ঢুকে পড়ে সে। ঠিক সেই সময়ই গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। গুলিতে আহত হয় টাইসন - তার পায়ে গুলি লাগে। কিন্তু সেখানেই থামেনি সে। আহত অবস্থাতেই এগিয়ে গিয়ে জঙ্গিদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয় সেনাকে। ফলে দ্রুত ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী, শেষ পর্যন্ত খতম করা হয় তিন জঙ্গিকে।
আহত টাইসনকে এয়ারলিফট করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপাতত তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।