তথ্য বলছে, বিলাসপুর ডিভিশনে মোট ৪২ জন মেমু ট্রেন চালকের মধ্যে মাত্র ৩০ জন মানসিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। নাগপুর ডিভিশনে ৫৬ জন চালকের মধ্যে মাত্র ৩৩ জন পাশ করেছেন।

বিলাসপুরে ট্রেন দুর্ঘটনা!
শেষ আপডেট: 12 November 2025 13:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সপ্তাহে ছত্তীসগড়ের বিলাসপুরে প্যাসেঞ্জার ট্রেনের সঙ্গে মালগাড়ির সংঘর্ষে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় (Bilaspur Train Accident) প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১ জন। প্রাথমিক তদন্তে চালকের গাফিলতির তত্ত্ব উঠে এসেছে। এবার রেল সূত্রে জানা গেল, যাত্রীবাহী ট্রেনটি লাল বিপদ সংকেত (রেড সিগন্যাল) অমান্য করেই এগিয়ে যায় এবং তারপরেই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, বিলাসপুর ট্রেন দুর্ঘটনায় (Bilaspur Train Accident) মেমু ট্রেনটির চালকরা মানসিক বা মনস্তাত্ত্বিক যোগ্যতার পরীক্ষায় (Psychological বা Aptitude Test) পাশই করেননি। অথচ যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর আগে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াই বাধ্যতামূলক নিয়ম। অর্থাৎ, যাত্রীদের জীবন সেইসব চালকদের হাতে ছিল, যাদের মানসিক যোগ্যতা এখনও যাচাই করা হয়নি।
রেল সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় (Bilaspur Train Accident) মারা যাওয়া লোকো পাইলট বিদ্যাসাগর কখনওই এই বাধ্যতামূলক পরীক্ষা দেননি। শুধু তিনিই নন, বিলাসপুর এবং নাগপুর রেল ডিভিশনের আরও বহু চালক এখনও এই পরীক্ষায় অংশ নেননি, অথচ প্রতিদিন যাত্রীবাহী ট্রেন চালাচ্ছেন।
তথ্য বলছে, বিলাসপুর ডিভিশনে মোট ৪২ জন মেমু ট্রেন চালকের মধ্যে মাত্র ৩০ জন মানসিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। নাগপুর ডিভিশনে ৫৬ জন চালকের মধ্যে মাত্র ৩৩ জন পাশ করেছেন। অর্থাৎ, দুই ডিভিশনে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চালকই মানসিক যোগ্যতার শংসাপত্র ছাড়াই ট্রেন চালাচ্ছেন, যা রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরীক্ষার মাধ্যমে চালকদের মনোযোগ, চাপ সামলানোর ক্ষমতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা যাচাই করা হয়। তাই এই নিয়ম উপেক্ষা করলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়, যেমন দেখা গেল বিলাসপুরের ভয়াবহ দুর্ঘটনায়। এই তথ্য রেল ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
রেল মন্ত্রকের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে দুর্ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই রেল সেফটি কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি যুক্ত হয়েছে। সিগন্যাল অমান্যের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও মানসিক পরীক্ষার ঘাটতিই কি এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ ছিল, এই দিকগুলিও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।
কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?
রেল সূত্রে জানা গেছে, মেমু ট্রেনটি একের পর এক সিগন্যাল উপেক্ষা করেছিল। গতোরা স্টেশন থেকে ছাড়ার সময় ট্রেনটি সবুজ সিগন্যাল পেয়ে ৭৬ কিমি গতিতে চলছিল। এরপর দু'টি হলুদ সিগন্যাল আসে, যা গতি কমানোর নির্দেশ দেয়, কিন্তু চালক গতি কমাননি। তারপর যখন লাল সিগন্যাল দেখানো হয়, তখনও ট্রেনটি থামেনি। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই প্রায় ৫০ কিমি গতিতে ট্রেনটি গিয়ে ধাক্কা মারে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়িকে।
তদন্তে আগেই জানা গেছিল, ট্রেনের চালক বিদ্যাসাগর মাত্র এক মাস আগেই যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। অভিজ্ঞতার অভাবের কারণেই হয়তো তিনি ভুল করেছিলেন (inexperienced loco pilot)। অনুমান করা হচ্ছে, বাঁকা লাইনের কারণে তিনি পাশের লাইনের সিগন্যালটিকে নিজের লাইনের বলে ভুল করেন, আর সেই ভুলই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। দুর্ঘটনায় চালকের মৃত্যু হয়েছে, আর তাঁর সহকারী রশ্মি রাজ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।