বৃহস্পতিবার থেকে এই দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি (CRS) ব্রজেশ কুমার মিশ্রের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল তদন্ত চালাচ্ছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 November 2025 14:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছত্তীসগড়ের বিলাসপুরে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পরও বহু প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি (Chhattisgarh train accident)। মঙ্গলবারের সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১ জন, আহত হন ২০ জনেরও বেশি। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক ভয়ঙ্কর গাফিলতির ইঙ্গিত, যেগুলিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বিলাসপুরের কাছে লালখদন এলাকায়, গতোরা রেলস্টেশনের খুব কাছেই। করবা-বিলাসপুর মেমু যাত্রীবাহী ট্রেনটি তখন সোজা গিয়ে ধাক্কা মারে একটি দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়িকে। ধাক্কা এতটাই জোরে লাগে যে ট্রেনের কোচগুলো একেবারে দুমড়ে মুচড়ে খেয়ে যায়, লোহার দণ্ড ও কাঠামো ছিঁড়ে যায়, আর চারদিকে ছড়িয়ে থাকে ভাঙা অংশ আর ধ্বংসস্তূপ।
কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?
রেল সূত্রে জানা গেছে, মেমু ট্রেনটি একের পর এক সিগন্যাল উপেক্ষা করেছিল। গতোরা স্টেশন থেকে ছাড়ার সময় ট্রেনটি সবুজ সিগন্যাল পেয়ে ৭৬ কিমি গতিতে চলছিল। এরপর দু'টি হলুদ সিগন্যাল আসে, যা গতি কমানোর নির্দেশ দেয়, কিন্তু চালক গতি কমাননি। তারপর যখন লাল সিগন্যাল দেখানো হয়, তখনও ট্রেনটি থামেনি। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই প্রায় ৫০ কিমি গতিতে ট্রেনটি গিয়ে ধাক্কা মারে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়িকে।
তদন্তে জানা গেছে, ট্রেনের চালক বিদ্যাসাগর মাত্র এক মাস আগে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। অভিজ্ঞতার অভাবের কারণেই হয়তো তিনি ভুল করেছিলেন (inexperienced loco pilot)। অনুমান করা হচ্ছে, বাঁকা লাইনের কারণে তিনি পাশের লাইনের সিগন্যালটিকে নিজের লাইনের বলে ভুল করেন, আর সেই ভুলই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। দুর্ঘটনায় চালকের মৃত্যু হয়েছে, আর তাঁর সহকারী রশ্মি রাজ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
বৃহস্পতিবার থেকে এই দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি (CRS) ব্রজেশ কুমার মিশ্রের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল তদন্ত চালাচ্ছে। তারা ইতিমধ্যে ১৯ জন রেলকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে, যার মধ্যে রয়েছেন সহকারী চালক রশ্মি রাজ, মালগাড়ির গার্ড সুনীল কুমার সাহু, মেমু ম্যানেজার এ কে দীক্ষিত, এবং অন্যান্য সিগন্যাল ও অপারেশন সংক্রান্ত কর্মীরা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে রেল বোর্ডে।