কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, বিমান দুর্ঘটনার পিছনে কোনও নাশকতা ছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একাধিক সংস্থা কাজ করছে।'

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 29 June 2025 12:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনার (Ahmedabad Air India Plane Crash) তদন্ত চলছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সবদিক। নাশকতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মুরলীধর মোহল (Minister of State for Civil Aviation of India Murlidhar Mohol)।
সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, 'ঘটনাটি (বিমান দুর্ঘটনা) অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্ত শুরু হয়েছে। বিমান দুর্ঘটনার পিছনে কোনও নাশকতা ছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একাধিক সংস্থা কাজ করছে।'
তিনি জানান, দুর্ঘটনাগ্রস্ত এআই ১৭১ বিমানের ব্ল্যাক বক্স বর্তমানে এয়ারক্রাফট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (Aircraft Accident Investigation Bureau) হেফাজতেই রয়েছে। সেটিকে বিদেশে পাঠানোর কোনও পরিকল্পনা নেই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, 'ব্ল্যাক বক্সটিকে ভারতেই পরীক্ষা করা হবে। বাইরে পাঠানো হবে না।'
গত ১২ জুন দুপুর ১.৩০ নাগাদ আমদাবাদের সরদার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টেকঅফের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী বিমানটি ভেঙে পড়ে (Ahmedabad Air India Plane Crash)। বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ বিমানে থাকা ২৪২ জন যাত্রী ও কর্মীদের মধ্যে মাত্র একজনই প্রাণে বেঁচেছেন। দুর্ঘটনায় মাটিতে থাকা আরও ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যাঁদের মধ্যে ছিলেন কয়েকজন জুনিয়র চিকিৎসক। প্রসঙ্গত, বিমানটি জুনিয়র চিকিৎসকদের হস্টেলে ভেঙে পড়েছিল।
পুলিশ জানায়, বিমানটি ভেঙে পড়তেই সঙ্গে সঙ্গেই আগুন ধরে যায়। কালো ধোঁয়ায় আকাশ ছেয়ে যায়। উড়ানের পরপরই পাইলট 'মে ডে' (Mayday) সংকেত পাঠিয়েছিলেন, যা একটি সম্পূর্ণ জরুরি অবস্থার নির্দেশ।
মুরলীধর মোহল জানান, 'এটি অত্যন্ত বিরল একটি দুর্ঘটনা। একসঙ্গে দু’টি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার মত বিষয় এর আগে কখনও শোনা যায়নি। বিশেষজ্ঞ এবং অভিজ্ঞ পাইলটদের একাংশের মতে, বিমানে 'ডুয়েল ইঞ্জিন ফেইলিওর' (Dual engine failure) দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
আরও জানা যায়, তিন মাসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট আসবে এবং সেখানেই স্পষ্ট হবে ইঞ্জিনের ত্রুটি, জ্বালানি সরবরাহের সমস্যা নাকি অন্য কিছু ঘটেছিল। ব্ল্যাক বক্সে থাকা ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে (Cockpit Voice Recorder) পাইলটদের কথোপকথনের রেকর্ডও রয়েছে। এএআইবি (AAIB) নিশ্চিত করেছে, ব্ল্যাক বক্স বিদেশে না পাঠিয়েই ভারতের মধ্যেই তদন্ত করা হবে।
দুর্ঘটনার পরে যাত্রীদের মধ্যে বিমানে যাত্রা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ভয় তৈরি হয়েছিল, তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, DGCA-র নির্দেশে এয়ার ইন্ডিয়ার ৩৩টি ড্রিমলাইনার বিমানের পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তাতে কোনও সমস্যা ধরা পড়েনি।