ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের পণ্যে যে বিপুল শুল্ক বসিয়েছে, তার মধ্যে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্কও রয়েছে।

এস জয়শঙ্কর
শেষ আপডেট: 3 September 2025 17:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের (India) ওপর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ৫০ শতাংশ শুল্ক (Tariff) বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে তরজা চলছেই। এবার এই ইস্যুতে ফের একবার কড়া বার্তা দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যবস্থা দ্রুত বদলাচ্ছে। তাই বিভিন্ন দেশকে তাদের রণনীতি এবং জোট সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।
নয়াদিল্লিতে জার্মানির ডেপুটি বিদেশমন্ত্রী জোহান ওয়াদেফুল-এর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর জয়শঙ্কর জানান, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত, জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অপরিহার্য।
বিদেশমন্ত্রী বলেন, 'বিশ্বে যে পরিবর্তন হচ্ছে, তা আমাদের নীতি এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। বৈশ্বিক কৌশলগত পরিস্থিতিতে অনেক বড় পরিবর্তন আসছে। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতিও বেশ অস্থির। আমার মনে হয়, এসব কারণেই ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বিশেষত ভারত ও জার্মানির আরও কাছাকাছি আসা দরকার।'
মার্কিন শুল্ক ও রুশ তেল নিয়ে ভারতের অবস্থান
ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের পণ্যে যে বিপুল শুল্ক বসিয়েছে, তার মধ্যে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্কও রয়েছে। এই নতুন শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও চাপে পড়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট - চাপে মাথানত করা হবে না। যে বাধাই আসুক না কেন, পাল্টা কড়া জবাব দেওয়া হবে।
ভারত অবশ্য এই দ্বিমুখী নীতির জন্য আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনা করেছে। নয়াদিল্লির অভিযোগ, ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও আমেরিকা ও ইউরোপ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে, অথচ তারা ভারতকে জরিমানা করছে। এটি তাদের দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছু নয়।
এই প্রেক্ষাপটেই সম্প্রতি চিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং অন্যান্য আঞ্চলিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এই সম্মেলন এক নতুন বিশ্বশক্তির বিন্যাস তুলে ধরছে। একই সম্মেলনে পুতিন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একসঙ্গে হাজির হয়ে বিশ্বকে এক নতুন বার্তা দিয়েছেন।
তবে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, ‘আমেরিকা ও ভারতের সম্পর্ক এখন ভাল হলেও বহু বছর আগে সেটা একপেশে ছিল। কারণ ভারত আমেরিকান পণ্যের উপর বিরাট অঙ্কের শুল্ক চাপাত।’ ট্রাম্পের দাবি, ‘ভারত আমাদের উপর অন্যতম সর্বোচ্চ শুল্ক ধার্য করত। ফলে আমেরিকা ভারতের সঙ্গে ব্যবসা তেমন করত না। কিন্তু ভারত আমেরিকার বাজারে নিজেদের পণ্য দিত। আমরা তখন শুল্ক নিতাম না। খুবই বোকামি করতাম। ওরা ব্যবসা করত, আমরা করতে পারতাম না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, ‘ভারত নিজেদের পণ্য সহজেই আমেরিকার বাজারে বিক্রি করত। কিন্তু আমেরিকার পণ্য ভারতে ঢুকতে পারত না। কারণ শুল্ক এত বেশি ছিল যে ব্যবসা করা সম্ভব হত না।’
তবে ভারতের উপর শুল্ক হ্রাসের কোনও পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা এই জানা যায়নি।