তিনি বলেন, 'অনেকেই বলছেন, আমেরিকা মধ্যস্থতা করেছে। কিন্তু সত্যিটা হল, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ১০ মে হটলাইনের মাধ্যমে আমাদের জানায় তারা গুলি চালানো বন্ধ করতে চায়। আমরা তাতে সাড়া দিই। এটা একান্তই আমাদের ও পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়, বাইরের কেউ এতে যুক্ত ছিল না।'

ভারতের বিদেশমন্ত্রী।
শেষ আপডেট: 26 May 2025 21:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংঘর্ষবিরতিতে (Ceasefire) ট্রাম্পের (Donald Trump) মধ্যস্থতার দাবি ফের নস্যাৎ করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)।
কয়েকদিন আগেই নেদারল্যান্ডস-ভিত্তিক সম্প্রচার সংস্থা এনওএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়শঙ্কর বলেন, 'এই সংঘর্ষবিরতিতে কোনও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা ছিল না, বরং ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত হয়।'
এবার জার্মানির একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি কার্যত খারিজ করে দিলেন বিদেশ মন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রটির তরফে ভারতের বিদেশমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, সংঘর্ষবিরতির জন্য আমেরিকাকে কি ধন্যবাদ জানানো উচিত? জবাবে জয়শঙ্করের স্পষ্ট বার্তা, "এই সংঘর্ষবিরতির ধন্যবাদ প্রাপ্য ভারতীয় সেনার (Indian Forces)! কারণ, তাদের জন্যই পাকিস্তান বাধ্য হয়েছে সংঘর্ষবিরতি চেয়ে ভারতের কাছে অনুরোধ করতে।"
তিনি বলেন, 'অনেকেই বলছেন, আমেরিকা মধ্যস্থতা করেছে। কিন্তু সত্যিটা হল, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ১০ মে হটলাইনের মাধ্যমে আমাদের জানায় তারা গুলি চালানো বন্ধ করতে চায়। আমরা তাতে সাড়া দিই। এটা একান্তই আমাদের ও পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়, বাইরের কেউ এতে যুক্ত ছিল না।'
গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয় ২৬ জনের। নিরীহ মানুষের মৃত্যু হওয়ায় ভারত 'অপারেশন সিঁদুর' শুরু করে। এই অভিযানে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়, খতম হয় জইশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তইবা এবং হিজবুল মুজাহিদিনের মতো জঙ্গি সংগঠনের ১০০-রও বেশি সদস্য।
তারপর পাল্টা পাকিস্তান একাধিকবার হামলার চেষ্টা করে ভারতে। পাঞ্জাব, রাজস্থান, কাশ্মীর-সহ একাধিক এলাকায় ড্রোন আক্রমণ প্রতিহত করে ভারতীয় সেনা। টানা চারদিন এমন চলার পর অবশেষে সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করে দুই দেশ। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এদেশের তরফে সরকারিভাবে কিছু জানানোর আগেই টুইট করে বিষয়টি জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেবিষয় নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। বিরোধীরাও কটাক্ষ করতে পিছপা হয়নি।
জয়শঙ্কর সেই সমস্ত কটাক্ষের জবাব দেন। অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বলেন, 'এই অভিযান চালিয়ে যাওয়ার একটি কৌশলগত তাৎপর্য আছে। ২২ এপ্রিলের মতো ঘটনা ঘটলে, আমরা চুপ করে থাকব না। জঙ্গিদের যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই তাদের নির্মূল করা হবে– সেটা যদি পাকিস্তানও হয়, তাহলেও।'
তবে তিনি পরিষ্কার করে দেন যে, অপারেশন সিঁদুর সক্রিয় থাকা মানে এই নয় যে আমরা লড়াই করছি। এখন আমরা সংঘর্ষবিরতির মধ্যে রয়েছি। কাজেই এই অভিযান আপাতত স্থগিত রয়েছে।
জয়শঙ্কর জানান, সংঘর্ষবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু কোনও দেশই এ বিষয়ে মধ্যস্থতা করেনি। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স যথাক্রমে তাঁকে ও প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ফোন করেছিলেন। তবে তাঁদের ভূমিকা শুধুই উদ্বেগ প্রকাশ এবং পরিস্থিতি জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
তিনি অশান্তি চলাকালীন সকলকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন, যদি পাকিস্তান যুদ্ধ থামাতে চায়, তাহলে তাদের সেনাপ্রধানকে এদেশের সেনাপ্রধানকে ফোন করে সেটা বলতে হবে এবং সেটাই হয়েছে।