ইতিমধ্যে ক্লাবটি সিল করে দিয়েছে প্রশাসন। মালিক ও ম্যানেজারদের জেরা শুরু হয়েছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

গোয়ার নাইটক্লাবে আগুন
শেষ আপডেট: 7 December 2025 11:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর গোয়ার আরপোরায় 'বিচ বাই রোমিও লেন' নাইটক্লাবে শনিবার গভীর রাতে ভয়াবহ আগুন লাগে। ঘটনায় এপর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ২৫ জনের। অগ্নিদ্বগ্ধ হয়ে হাসপাতালে আরও ছয়। আগুন লাগার পর অনেকেই কারণ হিসেবে অনেকরকম কথা বলছেন, উঠে আসছে নানা তত্ত্ব কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, নাচের ফ্লোরেই আচমকা আগুন লেগে তা ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আশপাশও জ্বলতে শুরু করে। তখন ওখানে খুব কম করে হলেও ১০০ জন তো উপস্থিত ছিলেনই, তাদের বেশিরভাগই পর্যটক।
এক ব্যক্তি জানান, আগুন দেখা মাত্রই চারদিকে ছুটোছুটি শুরু হয়। অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করেন, কিন্তু হুড়োহুড়ির মধ্যে তা সম্ভব হয়নি। এরপর কয়েক জন নীচের দিকে রান্নাঘরের কাছে দৌড়ে যান। আর তাতেই ঘটে যায় নতুন বিপত্তি। হু-হু করে ধোঁয়া ঢুকে পড়ে সেখানে। আটকে পড়েন তাঁরা, সঙ্গে ছিলেন ক্লাবের কয়েক জন কর্মীও। দ্রুত নেমে আসা ঘন ধোঁয়ায় মুহূর্তের মধ্যে কমে যায় দৃশ্যমানতা। কিছুক্ষণ পর আর কাউকে দেখা যায়নি আর।
প্রত্যক্ষদর্শীরা চেষ্টা করেও কাউকে উদ্ধার করতে পারেননি বলে জানান। যাঁরা আটকে পড়েছিলেন তাঁরাও বেরোনোর পথ খুঁজে না পেয়ে হাহাকার শুরু করেন। দমবন্ধ হয়ে আসে অর্ধেকের। কতজন শুধু ওখানে আটকে মারা গেছেন, তা জানা নেই তাঁদের।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ২৫ জনের মধ্যে চার জন পর্যটক, ১৪ জন স্টাফ এবং বাকি সাত জনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। আহত ছ’জনের চিকিৎসা চলেছে। এখনও আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যায়নি। গোয়া পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, “এভাবে আগুন লাগার কারণ অনুমান করা যাচ্ছে না। দমকল বিভাগ ও পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। সবরকম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
আগুন লাগার পরই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বেশ কয়েকটি দমকল ইঞ্জিন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় দু’ঘণ্টা লাগে। কিন্তু ততক্ষণে ক্লাবের অত্যন্ত গা-ঘেঁষা অংশেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে সময়মতো পৌঁছেও বহু কর্মীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্লাবটি সিল করে দিয়েছে প্রশাসন। মালিক ও ম্যানেজারদের জেরা শুরু হয়েছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমনপথ কার্যকর ছিল কি না এবং ক্লাবটি যথাযথ অগ্নিনিরাপত্তা ও গ্যাস সংযোগ সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলছিল কি না। রাজ্যের ডিজিপি জানিয়েছেন, গ্যাস সংযোগের অবস্থান, ফায়ার এক্সটিংগুইশার, ইভাকুয়েশন প্ল্যান-সহ সব ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, 'স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তার চেষ্টা করছে। যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা রইল। খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।'
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মৃতদের পরিবার পিছু প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে দুই লাখ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। আহতদের দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা করে।