গাড়িগুলি কেনার পর অতিরিক্ত প্রায় ৫ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে বিভিন্ন রকমের ‘মডিফিকেশন’-এর জন্য। ফলে মোট খরচ গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকায় (Thar for Forest Department)।

মাহিন্দ্রা থার
শেষ আপডেট: 23 December 2025 14:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওড়িশার বন দফতরের (Odisha Forest Department) গাড়ি কেনা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে প্রায় ৭ কোটি টাকা খরচ করে ৫১টি মাহিন্দ্রা থার এসইউভি (SUV) কেনে বন দফতর। কিন্তু সরকারি নথি সামনে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ, ওই গাড়িগুলি কেনার পর অতিরিক্ত প্রায় ৫ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে বিভিন্ন রকমের ‘মডিফিকেশন’-এর জন্য। ফলে মোট খরচ গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকায় (Thar for Forest Department)।
নথি অনুযায়ী, প্রতিটি থার গাড়ির (Thar) দাম ছিল গড়ে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা। পরে সেই গাড়িগুলিতে বিশেষ আলো, ক্যামেরা, সাইরেন, বিশেষ ধরনের টায়ার-সহ নানা সরঞ্জাম বসানো হয় বলে জানা গিয়েছে। এই অতিরিক্ত খরচ নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে (Odish News)।
বিতর্ক মাথাচাড়া দিতেই বিশেষ অডিটের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের বন ও পরিবেশমন্ত্রী গণেশরাম সিং খুঁটিয়া। তিনি জানিয়েছেন, শুধু গাড়ি কেনার প্রক্রিয়াই নয়, মডিফিকেশনের জন্য যে বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ হয়েছে, তার যৌক্তিকতাও খতিয়ে দেখা হবে।
মন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, দফতরের কাজে প্রয়োজনীয় কিছু পরিবর্তন থাকতেই পারে, কিন্তু অপ্রয়োজনীয় বা বাড়াবাড়ি খরচ কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। খুঁটিয়া বলেন, “কেন এই মডিফিকেশন করা হল এবং সেগুলি আদৌ দফতরের কাজের জন্য দরকার ছিল কি না, সেটাই তদন্তের মূল বিষয়। যদি দেখা যায় কোনও সরঞ্জাম অপ্রয়োজনীয়, অতিরিক্ত বা অনুমোদন ছাড়া বসানো হয়েছে, তা হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বন দফতরের তরফে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, এই এসইউভিগুলি কেনা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বন-সংক্রান্ত কাজে ব্যবহারের জন্য। বনাঞ্চলে আগুন নিয়ন্ত্রণ, দুর্গম ও সীমান্তবর্তী এলাকায় কর্মীদের দ্রুত পৌঁছনো, বন্যপ্রাণ রক্ষা, চোরাশিকার ও কাঠ পাচার রুখতে এই গাড়িগুলি প্রয়োজন বলে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন আধিকারিকরা। দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে গাড়িগুলিতে বিশেষ সরঞ্জাম বসানো জরুরি ছিল বলেও দাবি দফতরের।
তবে এত ব্যাখ্যার পরেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে— আগে থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না এবং এত বিপুল খরচ আদৌ যুক্তিসঙ্গত ছিল কি না। সরকারি সূত্রের খবর, অডিট রিপোর্ট জমা পড়লেই সব পরিষ্কার হবে এবং তার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করবে রাজ্য সরকার।