
সবথেকে বেশি নমুনা মিলেছে পাউরুটিতে ছত্রাক এবং আটা-ময়দায় পোকামাকড়।
শেষ আপডেট: 7 April 2025 12:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে রীতিমতো ভয়ে ফেলে দেওয়া এক সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশিত হল আজ, বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস, ২০২৫ (World Health Day 2025)-এ। সমীক্ষা অনুযায়ী, আইসক্রিম টাবে কেন্নো থেকে ওয়েফার ও চিপসে মৃত ব্যাঙ থাকার তথ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, রিপোর্ট বলছে, সিরাপ জাতীয় খাবারে নেংটি ইঁদুরেরও সন্ধান মিলেছে দেশীয় খাবারে। যা শিশু সহ বৃদ্ধ থেকে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক।
স্থানীয় কোম্পানিগুলিরই শুধু নয়, প্রখ্যাত ব্রান্ডের খাবারেও এ ধরনের বিষাক্ত বস্তুর সন্ধান মিলেছে। রিপোর্ট বলছে, গত তিন বছর ধরে ৩৮ শতাংশ ভারতীয় প্যাকেট করা খাবার কিনেছেন মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার দিনে। যার ভিতর থেকে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়, ছত্রাক এবং অন্যান্য বিষাক্ত বস্তু মিলেছে। একটি কমিউনিটি প্ল্যাটফর্ম লোকালসার্কলস-এর নতুন সমীক্ষার এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
সবথেকে বেশি নমুনা মিলেছে পাউরুটিতে ছত্রাক এবং আটা-ময়দায় পোকামাকড়। আর এসবের অভিযোগের একটাই দাওয়াই, সেটা হল পয়সা ফেরত অথবা জিনিস বদলে দেওয়া। কিন্তু, এত কিছুর পরেও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি এদেশে। সংস্থাটি ৩৪১টি জেলার ৪০,০০০ গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট তৈরি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, খারাপ সামগ্রী পাওয়ার পর তাঁরা সেই কোম্পানির জিনিস ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন। ২৫ শতাংশের প্রতিক্রিয়া হল, তাঁরা ওই নির্দিষ্ট খাবারটি বন্ধ করলেও ব্রান্ডকে পরিত্যজ্য করেননি।
১০ জনের মধ্যে ৯ জন গ্রাহক ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা এবং মানক কর্তৃপক্ষ (FSSAI) এবং রাজ্য খাদ্য দফতরকে লাগাতার অভিযান চালানো উচিত। তবে অনেকের মতে, অভিযান নামমাত্রই হয়ে থাকে, সাধারণত সার্টিফিকেশন পুনর্নবীকরণের সময়ই তল্লাশি চালানো হয়। এছাড়াও সাধারণ গ্রাহকদের দাবি, এ বিষয়ে কার্যকরী এবং সহজে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া তৈরি করা উচিত সরকারের।
প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ১৯৫০ সালে ৭ এপ্রিলকে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিনটিকে স্মরণ করে বলেন, স্বাস্থ্য হল প্রকৃত ভবিষ্যৎ এ সম্পদ। কেন্দ্রীয় সরকার স্বাস্থ্যের যত্ন রক্ষা ও মানুষের উপকারের জন্য আরও বিনিয়োগ করবে। যে কোনও সমাজের মূল ভিত্তি হল জাতির সুস্বাস্থ্য।
একটি ভিডিও পোস্ট করে মোদী আরও বলেছেন, মোটাত্ব রুখতে ভোজ্যতেলের ব্যবহার ১০ শতাংশ কমিয়ে আনতে হবে। একইসঙ্গে জীবনযাত্রার সঙ্গ সাযুজ্য বজায়কারী অসুখবিসুখ, বিশেষত মোটা হয়ে পড়াকে স্বাস্থ্যের বিপদ বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। একটি রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে মোদী বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে মোটাত্ব অসুখে ভোগা মানুষের সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৪ কোটি।