রাজকুমার রাইয়ের দিদি শীলা দেবী বৃহস্পতিবার আততায়ীদের গ্রেফতারি এবং এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন।

তেজস্বী যাদব ও রাজকুমার রাই।
শেষ আপডেট: 11 September 2025 12:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার বিধানসভা ভোটের মুখে রাজ্যের প্রধান বিরোধী রাষ্ট্রীয় জনতা দল নেতা রাজকুমার রাই ওরফে আল্লা রাইকে গুলি করে খুন করল দুষ্কৃতীরা। স্বভাবতই জেডিইউ-বিজেপি জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের সমালোচনায় সরব হয়েছে আরজেডি, কংগ্রেস সহ বামপন্থী দলগুলি। রাজকুমার রাইয়ের দিদি শীলা দেবী বৃহস্পতিবার আততায়ীদের গ্রেফতারি এবং এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন। খুনিরা গ্রেফতার না-হলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাস্তা ও থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বিক্ষুব্ধ নেতাকে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে দাবি তুলে তিনি জানান, দোষীরা গ্রেফতার না-হওয়া পর্যন্ত ভাইয়ের শেষকৃত্য করব না আমরা।
রাজকুমার ওরফে আল্লা রাইয়ের পরিবার জানিয়েছে, তিনি আগে আরজেডি করতেন। কিন্তু, কিছু কারণে তাঁর সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় তিনি দল থেকে ইস্তফা দেন। শুধু তাই নয়, তেজস্বী যাদবের বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর ইচ্ছে ছিল, রাঘোপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়ার। উল্লেখ্য, রাঘোপুরেরই বিধায়ক হলেন বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব। তাঁর গ্রামের লোকেদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, বিতর্কিত জমি কেনাবেচার ব্যবসায় জড়িত ছিলেন রাজকুমার।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বুধবার রাত ৯টা থেকে ১০টা নাগাদ পাটনার মুন্না চক এলাকার চিত্রগুপ্ত নগর থানা এলাকায় আল্লা রাইকে তাড়া করে খুন করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বৈশালী রাঘোপুরের বাসিন্দা আল্লা রাই বর্তমানে মুন্না চক এলাকায় থাকছিলেন। তিনি বুধবার রাতে কিছু কাজ সেরে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। তার আগে রাস্তার একটি হোটেলে দাঁড়িয়ে খাবার কিনছিলেন। তিনি একটি চারচাকার গাড়িতে ছিলেন। সেখানেই বাইকে চেপে দুই আততায়ী আল্লা রাইয়ের সামনে এসে দাঁড়ায়।
পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে আল্লা রাই দৌড়ে হোটেলের ভিতরে ঢুকে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। দুষ্কৃতীরা তাঁকে মোট ৬টি গুলি করে। একটি গুলি গিয়ে লাগে হোটেলের ঠান্ডা পানীয় রাখার ফ্রিজে। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ৬টি গুলির খোল উদ্ধার করেছে। উল্লেখ্য, চিত্রগুপ্ত নগর থানার খুব কাছেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। পুলিশ দ্রুত আরজেডি নেতাকে পাটনা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পাটনা পূর্বের পুলিশ সুপার পরিচয় কুমার বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মনে হচ্ছে এই খুনে জড়িত রয়েছে দুজন। তিনি আরও জানান, মৃত ব্যক্তি রাজনীতি করতেন এবং তাঁর জমি বেচাকেনার ব্যবসা ছিল। ব্যবসায়িক শত্রুতা নাকি রাজনৈতিক তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, রাই আগামী ভোটে সম্ভবত রাঘোপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হতেন।