আদালত জানায়, গোপনীয়তার অধিকার সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত হলেও বিচারপ্রক্রিয়ায় সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে, যদি সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল তথ্য মামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 13 February 2026 14:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলায় (Divorce case) প্রাইভেট হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও ফোন কলের রেকর্ড (Whatsapp call chat record as evidence) প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে - এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল ছত্তীসগড় হাইকোর্ট (Chattishgarh High court)। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার (Right to Privacy) থাকলেও তা একেবারে সর্বোচ্চ বা ‘অ্যাবসোলিউট’ নয়।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি বিলাসপুরে একটি বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এই রায় দেয় হাইকোর্ট। মামলায় স্বামীর উকিল পক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং ফোন কল রেকর্ড (Electronic evidence) আদালতে জমা দিতে চান। এর বিরোধিতা করেন স্ত্রী। তাঁর দাবি, এই তথ্য তাঁর সম্মতি ছাড়া সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা গ্রহণ করলে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১-এ বর্ণিত গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘিত হবে।
এর আগে পারিবারিক আদালত স্বামীকে ওই ডিজিটাল তথ্য প্রমাণ (Digital date as evidence in court) হিসেবে জমা দেওয়ার অনুমতি দেয়। সেই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যান স্ত্রী।
মামলাটি খতিয়ে দেখতে গিয়ে হাইকোর্ট ফ্যামিলি কোর্টস অ্যাক্ট, ১৯৮৪ (Family Courts Act, 1984)-এর ধারা ১৪ উল্লেখ করে জানায়, পারিবারিক আদালত এমন কোনও প্রমাণ গ্রহণ করতে পারে যা মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তিতে সহায়ক - যদিও তা ভারতীয় সাক্ষ্য আইন (Indian Evidence Act)-এর কঠোর নিয়ম পুরোপুরি মেনে না-ও চলতে পারে।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, গোপনীয়তার অধিকার সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত হলেও বিচারপ্রক্রিয়ায় সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে, যদি সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল তথ্য মামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে।
একই সঙ্গে আদালত জোর দিয়ে বলেছে, পারিবারিক আদালতগুলিকে আরও বাস্তবসম্মত ও নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে যাতে প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়। তবে এই ধরনের ইলেকট্রনিক প্রমাণ গ্রহণের ক্ষেত্রে তার সত্যতা, প্রাসঙ্গিকতা এবং কীভাবে তা সংগ্রহ করা হয়েছে - এসব বিষয় অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।
হাইকোর্ট শেষ পর্যন্ত পারিবারিক আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে এবং জানায়, আধুনিক যুগে ডিজিটাল যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণমূল্য রয়েছে, বিশেষ করে বিবাহ সংক্রান্ত মামলায় যেখানে ব্যক্তিগত যোগাযোগই প্রায়শই বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।