প্রতারকরা ওই বৃদ্ধকে নির্দেশ দেন মোবাইলের ক্যামেরা সারাক্ষণ অন রাখতে। ফলে তিন দিন ধরে নিজেদের ঘরেই বন্দি অবস্থায় ছিলেন বৃদ্ধ দম্পতি।

এআই দিয়ে তৈরি ছবি
শেষ আপডেট: 30 October 2025 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অ্যাকাউন্ট থেকে হাওয়া ১.১৯ কোটি টাকা। ওটাই ছিল সারাজীবনের সেভিংস। শুনেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল বৃদ্ধের। ডিজিটাল অ্যারেস্ট হয়েছিলেন বলে জানা যাচ্ছে, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মুম্বইয়ের সাইবার ক্রাইম বিভাগ।
অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি আধিকারিক। সারাজীবন কাজ করে টুকটুক করে সামান্য টাকা জমিয়েছিলেন। এতবছর ধরে সেটাই ছিল সব। যা ফুলেফেঁপে ১.১৯ কোটি ও আরও কিছু টাকায় ঠেকেছিল। বৃদ্ধের বয়স ৮২ ও তাঁর স্ত্রী বছর ৮০-র।
তিন দিন ধরে ‘ডিজিটাল বন্দি’ছিলেন
পুলিশ জানাচ্ছে, এই প্রতারণা চলেছে ১৬ অগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। প্রতারকরা নিজেদের মুম্বই সাইবার পুলিশ ও সিবিআই আধিকারিক পরিচয় দিয়েছিল। দম্পতিকে জানানো হয়, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আধার কার্ড একটি মানি লন্ডারিং মামলায় জড়িত, তাই তাঁদের ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এ রাখা হবে।
প্রতারকরা ওই বৃদ্ধকে নির্দেশ দেন মোবাইলের ক্যামেরা সারাক্ষণ অন রাখতে। ফলে তিন দিন ধরে নিজেদের ঘরেই বন্দি অবস্থায় ছিলেন বৃদ্ধ দম্পতি। সেই সময়েই তাঁদের কাছ থেকে ব্যাঙ্ক ও আধার সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য আদায় করে নেয় প্রতারকরা। একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয়।
প্রতারণার শিকার হয়ে মৃত্যু
সব মিলিয়ে প্রতারকেরা তাঁদের জীবনের সমস্ত সঞ্চয় হাতিয়ে নেয়। এমনকি বিদেশে থাকা তিন মেয়ের পাঠানো সঞ্চয়ও তুলে নেয় ওই দম্পতি। কয়েক দিন পর প্রতারকদের ফোন বন্ধ হয়ে যায়। তবেই তাঁরা বুঝতে পারেন, প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর মেয়েদের এক জনের পরামর্শে পুলিশে অভিযোগ জানান থানায়।
তদন্ত শুরু হয়েছে দ্রুত কিন্তু ২২ অক্টোবর বাড়ির মেঝেতে হঠাৎ লুটিয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধ। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের কথায়, টানা মানসিক চাপ ও আর্থিক ক্ষতির ধাক্কা সামলাতে পারেননি তাই এই অবস্থা।
পুণে সাইবার পুলিশের সিনিয়র ইন্সপেক্টর স্বপ্নালি শিন্ডে জানান, প্রতারণার সূচনা হয়েছিল একটি ফোনকল থেকেই। ফোনের অপরপ্রান্তে থাকা ব্যক্তি নিজেকে মুম্বই পুলিশের “এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট” বলে দাবি করেন, তাঁর আধার ও ব্যাঙ্ক তথ্য একটি এয়ারলাইনের মানি লন্ডারিং মামলায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানানো হয়। এরপর আরও এক প্রতারক নিজেকে সিবিআই আধিকারিক পরিচয় দিয়ে জানায়, তাঁদের “হোম অ্যারেস্ট” বা “জেল অ্যারেস্ট”-এর নির্দেশ দেওয়া হবে।
সাইবার অপরাধ বিশ্লেষক রোহন ন্যায়ধীশ বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'কোনও অবস্থাতেই ফোনে কাউকে গ্রেফতার করা যায় না। কোনও সরকারি সংস্থা ফোনে ব্যক্তিগত তথ্য বা টাকা দাবি করতে পারে না। এমন ফোন পেলে প্রথমেই স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করতে হবে।'
তিনি আরও জানান, প্রতারকেরা এখন ছোট শহর থেকে ভিপিএন ও সিম কার্ড ব্যবহার করে নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে কাজ করছে। নাগরিকদের সচেতন থাকতে হবে, আতঙ্কিত হওয়া যাবে না।