বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ বলে, “ডিজিটাল অ্যারেস্ট মামলাগুলিতে এককভাবে তদন্তের প্রয়োজন। অপরাধীরা দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকতে পারে, কিংবা সীমান্তের ওপার থেকেও পরিচালিত হতে পারে।

সুপ্রিম কোর্ট
শেষ আপডেট: 27 October 2025 14:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিজিটাল প্রতারণা ও ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর (Digital Arrest) ক্রমবর্ধমান ঘটনায় এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানিয়েছে, সারা দেশে একযোগে তদন্ত চালাতে সিবিআই-কে (CBI) দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আদালতের পর্যবেক্ষণ— এসব অপরাধের পিছনে আন্তর্জাতিক জালও থাকতে পারে, যার শিকড় মায়ানমার, থাইল্যান্ড বা ভারতের বাইরেও প্রসারিত।
বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ বলে, “ডিজিটাল অ্যারেস্ট মামলাগুলিতে এককভাবে তদন্তের প্রয়োজন। অপরাধীরা দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকতে পারে, কিংবা সীমান্তের ওপার থেকেও পরিচালিত হতে পারে। তাই সিবিআই-এর হাতে তদন্ত ছাড়া বিকল্প নেই।”
আদালত আরও জানায়, প্রয়োজনে সিবিআইকে অতিরিক্ত সাইবার বিশেষজ্ঞ ও সম্পদ সরবরাহ করা হবে। আদালত বলেছে, “আমরা নিজে থেকে এই তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করব এবং প্রয়োজনে নির্দেশ জারি করব।”
প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে, হরিয়ানার আম্বালা জেলার এক প্রবীণ দম্পতির মামলাটি সিবিআই-এর হাতে তুলে দিয়েছে আদালত। ওই দম্পতি ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ফাঁদে পড়ে ১৬ দিন ধরে ভয় দেখানো হয়েছিল। প্রতারকেরা নকল সুপ্রিম কোর্টের আদেশ এবং তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্নার ভুয়ো স্বাক্ষর দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে ১.৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।
আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, “এই ধরনের ঘটনায় কিছুই করা হচ্ছে না। মানুষ সিস্টেমের উপর বিশ্বাস হারাচ্ছে।” তাই সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন নিজেদের রাজ্যে ঘটে যাওয়া ডিজিটাল প্রতারণার তথ্য আদালতে জমা দেয়।
সিবিআই-এর পক্ষে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, বহু ঘটনার সূত্র বিদেশে— বিশেষত মায়ানমার ও থাইল্যান্ডে মেলে। তিনি বলেন, “এই সমস্যার পরিধি আমাদের ধারণার চেয়েও অনেক বড়।”
তবে মেহতা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সমস্ত মামলা সিবিআই-এর হাতে তুলে দিলে তদন্তে বিলম্ব হতে পারে। কারণ, সংস্থাটি ইতিমধ্যেই কিছু আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধের তদন্তে ব্যস্ত। তাঁর কথায়, “থাইল্যান্ড বা মায়ানমারের মতো দেশে থেকে অপরাধ সংঘটিত হলে ইন্টারপোল ও বিদেশি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন হয়।”
আদালতও তা স্বীকার করে জানিয়েছে, এই ধরনের তদন্তে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “এই ধরনের অপরাধ সিস্টেমের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করছে। তাই এবার কড়া পদক্ষেপ জরুরি।”
পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে নভেম্বর ৩।