সিবিআই সূত্রে খবর, অভিযানে একাধিক মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কেওয়াইসি নথি, সিম কার্ড ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট রেকর্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 9 October 2025 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে ক্রমশ মাথাচাড়া দিচ্ছে ডিজিটাল প্রতারণার (Digital Fraud) জাল। সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে কিংবা প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক সাইবার চক্র (International Cyber Fraud)। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে কড়া পদক্ষেপ নিল সিবিআই (CBI)।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজধানী দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, হরিয়ানা, রাজস্থান, গুজরাত এবং কেরল জুড়ে একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, মোট ৪০টি স্থানে হানা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
সিবিআই সূত্রে খবর, অভিযানে একাধিক মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কেওয়াইসি নথি, সিম কার্ড ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট রেকর্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে যে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সক্রিয় প্রতারণা চক্রের যোগসূত্র রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার (South-East Asia) একাধিক দেশে।
জানা গিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার’ (I4C)-এ সম্প্রতি জমা পড়েছিল ন’টি গুরুতর অভিযোগ। তাতে বলা হয়, এক আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্র ‘ডিজিটাল গ্রেফতারের’ ভয় দেখিয়ে প্রায় ৮.৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই সিবিআই এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে।
#ঢ়ে
তদন্তে উঠে এসেছে অন্যের নামে খোলা একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট - যেগুলি সাইবার প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এই সূত্র ধরে ৪০ জন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চক্রটির সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
এছাড়া সিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, প্রতারকরা শুধু মিউল অ্যাকাউন্ট নয়, হাওলার মাধ্যমেও টাকা লেনদেন করত। প্রতারণা করে সংগৃহীত অর্থের একাংশ দেশের বিভিন্ন এটিএম থেকে তোলা হত, বাকি অর্থ বিদেশে পাঠানো হত। প্রায় ১৫ হাজার আইপি অ্যাড্রেস বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই প্রতারণা চক্রটির মূল নিয়ন্ত্রণ ছিল কম্বোডিয়া থেকে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক কালে দেশে বেড়েছে ‘ডিজিটাল গ্রেফতার’-এর নামে প্রতারণার ঘটনা। জালিয়াতরা ভিডিও কলে নিজেদের পুলিশ, সিবিআই, কাস্টমস বা ইডি আধিকারিক পরিচয় দিয়ে ভয় দেখিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। মূলত বয়স্ক ও তরুণ প্রজন্মকেই নিশানা করছে তারা।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সংস্থা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছে - সিবিআই, পুলিশ, কাস্টমস, ইডি বা কোনও বিচারক কখনও ভিডিও কলে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেন না। সতর্কতা ও সচেতনতাই এখন একমাত্র উপায় - এই বার্তাই দিয়েছে সিবিআই।