নির্বাচন কমিশনকে ভোট চুরির অভিযোগে আক্রমণের জন্য রাহুল গান্ধীকে তীব্র সমালোচনা করলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, আমলা ও সেনা কর্মকর্তারা।

রাহুল গান্ধী
শেষ আপডেট: 19 November 2025 20:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচন কমিশনের লাগাতার সমালোচনা নিয়ে এবার সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের সমালোচনার মুখে পড়লেন রাহুল গান্ধী। কমিশনের বিরুদ্ধে লোকসভার বিরোধী দলনেতা ভোট চুরির যে অভিযোগ তুলেছেন তা অভাবনীয় এবং অশোভন বলে মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত একদল পদস্থ সরকারি আধিকারিক। তাঁদের মধ্যে সাধারণ প্রশাসনের অবসরপ্রাপ্ত আমলা, বিচারক এবং সেনা কর্তারা রয়েছেন। এমন ২৭২ জন বিশিষ্ট নাগরিক কংগ্রেস নেতার উদ্দেশ্যে খোলা চিঠিতে তাকে পরামর্শ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনকে এইভাবে আক্রমণ না করতে।
ওই বিশিষ্ট নাগরিকেরা মনে করেন, নির্বাচনী লড়াইয়ে লাগাতার পরাজয়ের কারণে রাহুল গান্ধী মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। সেই কারণেই তিনি নির্বাচন কমিশনকে মাত্রা ছাড়া আক্রমণ করছেন। তাদের বক্তব্য নির্বাচন কমিশন দেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একজন দায়িত্বশীল নেতার লাগাতার আক্রমণ ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থাকেই গুরুতর পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেবে। সেটা গণতন্ত্রের জন্য এক বড় ধাক্কা।
রাহুল গান্ধী ও তাঁর দল কংগ্রেস বিহারে ভোট বিপর্যয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাদের অভিযোগ ভোটার তালিকার নিবিড় বিশেষ সংশোধনীর মারফত শাসক বিরোধী ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা এবং কর্নাটকের ভোট নিয়োগ রাহুল গান্ধী গুরুতর অভিযোগ করেন। বিহারে বিধানসভা ভোটের আগে তিনি ভোট অধিকার যাত্রা করেছেন রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদবকে সঙ্গে নিয়ে। বিহার বিধানসভার সদ্য অনুষ্ঠিত ভোটে এই দুই নেতারই মুখ পুড়েছে। কেউই দলের মুখ রক্ষা করতে পারেননি।
ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে রাহুলের বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দেখেছে বিজেপি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারে এই ব্যাপারে রাহুল গান্ধীর নাম না করে তার সমালোচনা করেন। কমিশনকে আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রথম দলীয় রাজনীতির বাইরে অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের একাংশও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এই ব্যাপারে রাহুল এবং কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
রাহুলের সমালোচনা করে দিল্লি হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এসএন ধিংরা এবং ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন ডিজিপি নির্মল কৌর বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক নেতা, প্রকৃত নীতিগত বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার পরিবর্তে, তাদের নাটকীয় রাজনৈতিক কৌশলে উস্কানিমূলক কিন্তু অপ্রমাণিত অভিযোগের আশ্রয় নেন। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে তাদের বীরত্ব ও সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং বিচার বিভাগের ন্যায্যতা, সংসদ এবং এর সাংবিধানিক পদাধিকারীদের নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করেছেন
এখন ভারতের নির্বাচন কমিশনের সততা এবং সুনামের উপর আক্রমণ শানানো হচ্ছে।
খোলা চিঠিতে তাঁরা আরও বলেছেন, লোকসভার বিরোধী দলনেতা বার বার নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করেছেন। বলছেন, যে নির্বাচন কমিশন ভোট চুরির সঙ্গে জড়িত তার খোলামেলা প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে এবং দাবি করেছেন যে তার কাছে ১০০ শতাংশ প্রমাণ রয়েছে।
বিশিষ্টদের মতে, রাহুলের এই মন্তব্য অবিশ্বাস্য এবং অশোভন। তিনি বলছেন যে ধরনের অনিয়ম পেয়েছেন তা একটি পরমাণু বোমা এবং যখন এটি বিস্ফোরিত হবে, তখন নির্বাচন কমিশনের লুকানোর কোনও জায়গা থাকবে না। রাহুলের এই মন্তব্য এবং এসআইআর নিয়ে আপত্তি সম্পর্কে ওই বিশিষ্টরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে আছেন ১৬ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, ১১৩ জন আমলা এবং সেনাবাহিনীর ১৩৩ জন অফিসার।