শুক্রবার শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, খেলার মাঠ, বাস টার্মিনাস, রেলস্টেশন— এসব জনবহুল জায়গা থেকে সমস্ত পথকুকুরকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখতে হবে।

সুপ্রিম কোর্ট
শেষ আপডেট: 7 November 2025 12:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে বেড়ে চলা পথকুকুর-সংক্রান্ত (Stray Dogs) ঘটনাকে রুখতে কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শুক্রবার শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, খেলার মাঠ, বাস টার্মিনাস, রেলস্টেশন— এসব জনবহুল জায়গা থেকে সমস্ত পথকুকুরকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখতে হবে।
বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা ও এনভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ জানায়, ধরা পড়া কুকুরদের নির্বীজন ও টিকাকরণের পর পুনরায় আগের স্থানে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আদালতের মন্তব্য, “ওইসব জায়গায় কুকুরদের ফেরত পাঠালে সমস্যার সমাধান হবে না, বরং উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।”
রাজ্য প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে বলা হয়েছে— তাদের আওতায় থাকা সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, খেলার মাঠ এবং সরকারি অফিসগুলির তালিকা তৈরি করতে হবে। জেলা প্রশাসকরা (ডিএম) নিশ্চিত করবেন, এই জায়গাগুলিতে সীমানা প্রাচীর ও নিরাপত্তা ঘের থাকবে, যাতে পথকুকুর প্রবেশ করতে না পারে।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত পরিদর্শন করবে, যাতে আশপাশে কোনও পথকুকুর না থাকে। যদি পাওয়া যায়, তাহলে তাদের ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করতে হবে। আদালত জানায়, “একবার ধরা পড়লে কুকুরকে আগের জায়গায় ফেরানো যাবে না।” এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১৩ জানুয়ারি।
‘দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে’
এর আগেও একই বেঞ্চ বেশ কিছু রাজ্যের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। পশ্চিমবঙ্গ ও তেলঙ্গানা ছাড়া অন্য রাজ্যগুলিকে কারণ দর্শানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “পথকুকুরের আক্রমণের ভিডিও ও সংবাদ আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।”
গবাদি পশু সরাতেও নির্দেশ
শুধু পথকুকুর নয়, এদিন সুপ্রিম কোর্ট রাজস্থানের হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসরণ করে সড়ক ও হাইওয়ে থেকে গবাদি পশু সরানোরও নির্দেশ দেয়। এনএইচএআই, সড়ক পরিবহন দফতর এবং পৌরসভাগুলিকে যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে হাইওয়ে থেকে পশু সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি জাতীয় ও রাজ্য সড়কে ২৪ ঘণ্টার নজরদারি দল রাখার কথা বলা হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনা বা পশুর উপস্থিতি নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। হেল্পলাইন নম্বরও প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি, সব রাজ্যকে গোয়াল ও পশু আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ধরা পড়া পশুদের সেখানে রাখা যায় এবং সড়কগুলো পশুমুক্ত থাকে।