ভারতের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (Reliance Industries Ltd) জানিয়েছে, আমেরিকার (America) বাইরে অন্য দেশগুলোর কাছে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অনুমতি (Venezuelan oil sales to non-U.S. buyers) মিললে তারা অপরিশোধিত তেল কেনার বিষয়টি বিবেচনা করবে।
.jpeg.webp)
গুজরাতের জামনগরে রিলায়েন্সের দুটি শোধনাগারের (Reliance refineries in Gujarat) সম্মিলিত দৈনিক ক্ষমতা প্রায় ১৪ লক্ষ ব্যারেল। ছবি এআই দিয়ে নির্মিত।
শেষ আপডেট: 9 January 2026 10:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (Reliance Industries Ltd) জানিয়েছে, আমেরিকার (America) বাইরে অন্য দেশগুলোর কাছে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অনুমতি (Venezuelan oil sales to non-U.S. buyers) মিললে তারা অপরিশোধিত তেল কেনার বিষয়টি বিবেচনা করবে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল পরিশোধন কোম্পানি (world’s largest refining complex) পরিচালনাকারী এই সংস্থার এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে (Reuters) জানান, অ-মার্কিন ক্রেতাদের জন্য ভেনেজুয়েলার তেলের প্রবেশাধিকার (access to Venezuelan crude) নিয়ে স্পষ্ট সবুজ সঙ্কেতের অপেক্ষা রয়েছে। নিয়ম মেনে চললে তেল কেনার কথা ভাবা হবে। শিল্পমহল সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (Indian Oil Corporation) ও হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনও (HPCL) একইভাবে অনুমতি মিললে ভেনেজুয়েলার তেল আমদানির (Venezuelan oil imports) কথা বিবেচনা করবে। যদিও এই দুই সংস্থা তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ সংস্থার প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
গতবছর থেকে ভেনেজুয়েলার তেল কেনা বন্ধ করে দেয় রিলায়েন্স। ২০২৫ সালের মার্চে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ভেনেজুয়েলার তেল কেনা দেশগুলোর উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক (tariff) আরোপের ঘোষণা করার পরই এই সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি। রিলায়েন্স সর্বশেষ ২০২৫ সালের মে মাসে ভেনেজুয়েলার তেলের চালান (Venezuelan crude cargo) পেয়েছিল।
এর মধ্যেই কারাকাস ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা (Caracas-Washington deal) হয়েছে, যার আওতায় প্রায় ৩০-৫০ মিলিয়ন ব্যারেল, অর্থমূল্যে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল (Venezuelan crude oil) যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারির শুরুতে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) আটক করার পর এই সমঝোতায় পৌঁছায় দুই দেশ।
গুজরাতের জামনগরে রিলায়েন্সের দুটি শোধনাগারের (Reliance refineries in Gujarat) সম্মিলিত দৈনিক ক্ষমতা প্রায় ১৪ লক্ষ ব্যারেল। এই পরিকাঠামো অপরিশোধিত ও তুলনামূলক সস্তা তেল, যেমন ভেনেজুয়েলার ‘মেরেই’ (Merey crude) প্রক্রিয়াকরণের উপযোগী। কেপলার সংস্থার বিশ্লেষক সুমিত রিতোলা বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল যদি আবার বিশ্ব বাজারে (global oil market) আসে, তা সস্তায় পাওয়া যেতে পারে। এতে উপযুক্ত রিফাইনারিগুলোর কাঁচামাল সংগ্রহ (feedstock optionality) ও লাভের অঙ্ক বাড়াতে পারে, যদিও সরবরাহ সীমিত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
ভারতের এইচপিসিএল-মিত্তল এনার্জি (HPCL-Mittal Energy), নায়ারা এনার্জি (Nayara Energy), আইওসি (IOC) এবং ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যালস (MRPL) অতীতে ভেনেজুয়েলার তেল আমদানি করেছে বলেও জানা যায়। রিতোলার মতে, ভেনেজুয়েলার তেল ভারতের জন্য রুশ তেলের বিকল্প (alternative to Russian oil) হিসেবে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সংস্থান হতে পারে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের (Russia-Ukraine war) পর থেকে রুশ তেল কেনা কমাতে পশ্চিমী দেশগুলোর চাপের মুখে রয়েছে ভারত (India Russian oil imports)। যুক্তরাষ্ট্র গত বছর রুশ তেল কেনার কারণে ভারতের পণ্যের উপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ (US tariffs on Indian goods) করেছিল। সম্প্রতি এক রিপাবলিকান সেনেটর (Republican Senator) জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা (sanctions on Russia trade) আরোপের লক্ষ্যে আইন প্রণয়নে ট্রাম্প প্রশাসন সবুজ সংকেত দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে রিলায়েন্স জানিয়েছে, জানুয়ারিতে তারা রুশ তেল নেবে না (Reliance stops Russian oil imports)। এর ফলে চলতি মাসে ভারতের রুশ তেল আমদানি (India Russian crude intake) কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে যেতে পারে। সুমিত রিতোলা বলেন, রিলায়েন্স ইতিমধ্যেই রুশ তেলের আমদানি কমিয়েছে। এতে স্পষ্ট যে, ঝুঁকি বাড়লে ভারতীয় শোধনাগারগুলি দ্রুত নিজেদের কৌশল বদলাতে সক্ষম।