মুদাসসার একটি পরিচয়পত্র দেখান, যা দেখে পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়ে। তিনি জানান, দু’জনেই পুলওয়ামার বাসিন্দা, যে জায়গার সঙ্গে আগের বিস্ফোরণ-কাণ্ডের অভিযুক্তদেরও যোগ ছিল।

শেষ আপডেট: 19 February 2026 12:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লাল কেল্লা (Delhi Red Fort) সংলগ্ন এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হঠাৎ চাঞ্চল্য ছড়ায়। দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) কোতওয়ালি থানার একটি দল সাধারণ টহলদারির সময় একটি সন্দেহজনক গাড়ি দেখতে পায়। সন্দেহ ঘনীভূত হয় যখন জানা যায় কালো হুন্ডাই স্যান্ট্রো গাড়িটির নম্বর জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu Kashmir number plate suspicious car Red Fort)।
গাড়িটি পার্ক করা ছিল ‘দিল্লি চলো পার্ক’-এ, লালকেল্লার পিছনে। ভিতরে বসে ছিলেন দু’জন ব্যক্তি, যাঁদের আচরণ প্রথমে অস্বাভাবিক মনে হয়নি, কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।
আগের বিস্ফোরণের স্মৃতি থেকেই বাড়তি সতর্কতা
প্রায় তিন মাস আগে, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর, একই এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে (Delhi Red Fort Blast)। একটি সাদা হুন্ডাই আই২০ (Hyundai i20)-এ বিস্ফোরণে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। অভিযোগ, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন কাশ্মীরের চিকিৎসক উমর নবি। পরে জানা যায়, সেই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের চিকিৎসকদের এক সংগঠিত 'হোয়াইট কলার' (White collar terror Delhi blast)) দল।
সেই ঘটনার পর থেকেই লালকেল্লা এলাকায় নজরদারি ও টহলদারি বাড়ানো হয়েছিল। সেই জোরদার টহলদারির ফলেই নজরে আসে এই স্যান্ট্রো গাড়ি।
এনআইএ (NIA) অফিসার পরিচয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে এক ব্যক্তি নিজের নাম বলেন মুদাসসর আহমেদ মির (৩৬)। তিনি দাবি করেন, তিনি ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-র একজন অফিসার। তাঁর সঙ্গে ছিল এক নাবালক।
মুদাসসার একটি পরিচয়পত্র দেখান, যা দেখে পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়ে। তিনি জানান, দু’জনেই পুলওয়ামার বাসিন্দা, যে জায়গার সঙ্গে আগের বিস্ফোরণ-কাণ্ডের অভিযুক্তদেরও যোগ ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে বড় মোড়, মিলল আসল পরিচয়
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত দু’জনকে কোতওয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল, এনআইএ এবং ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর কর্মকর্তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা করেন।
শেষমেশ স্বস্তির খবর এটাই যে, কোনও বড় জঙ্গি যোগ বা হামলার পরিকল্পনা মেলেনি। পুলিশ জানায়, মুদাসসার আসলে এক প্রতারক, যিনি ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ঠকাতেন।
এক পুলিশ আধিকারিক জানান, “ওই ব্যক্তির আইডি সম্পূর্ণ ভুয়ো। এনআইএ এমন পরিচয়পত্র দেয় না। প্রতারণার অভিযোগে মুদাসসরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
চাকরির লোভ দেখিয়ে প্রতারণা
তদন্তে উঠে এসেছে, কাশ্মীরে একটি গ্যারাজ চালাতেন মুদাসসার। সেই সূত্রেই তিনি একটি পুরনো স্যান্ট্রো গাড়ি কেনেন। এক রাজমিস্ত্রির নাবালক ছেলেকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিল্লিতে নিয়ে আসেন। এর জন্য ১০ হাজার টাকার চুক্তি হয়েছিল, যার মধ্যে ৩ হাজার টাকা আগাম নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
১৩ ফেব্রুয়ারি তারা দিল্লিতে এসে জামা মসজিদ এলাকায় একটি গেস্ট হাউসে ওঠেন। পরদিন থেকে মুদাসসার ওই নাবালকের জন্য কাজ খোঁজার চেষ্টা শুরু করেন।
তবে কোনও কাজের ব্যবস্থা করতে না পারায়, নাবালকটি ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই পুলিশের নজরে পড়ে তারা।