পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণত প্রচলিত বিস্ফোরকে শার্পনেল ক্ষতচিহ্ন দেখা যায়, কিন্তু এই ঘটনায় তা হয়নি। বিস্ফোরণটি ঘটেছে একটি চলন্ত হুন্ডাই i20 গাড়ির পিছনের অংশে। লালকেল্লার সামনে পার্ক করা কোনও গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটেনি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 November 2025 23:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির (Delhi) লালকেল্লা (Red Fort) মেট্রো স্টেশনের কাছে সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের (Blast) তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলে কোনও শার্পনেল বা বেলিস্টিক (ক্ষেপক) উপাদান (Balistic) পাওয়া যায়নি। পুলিশ সূত্রে বলা হচ্ছে, এমনকি মৃত ও আহতদের শরীরে ছররা বা গুলির মতো ক্ষতচিহ্নও নেই। বিস্ফোরণের অভিঘাত ও আগুনে পুড়ে যাওয়ার কারণে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, ২০ জনের বেশি আহত।
পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণত প্রচলিত বিস্ফোরকে শার্পনেল ক্ষতচিহ্ন দেখা যায়, কিন্তু এই ঘটনায় তা হয়নি। বিস্ফোরণটি ঘটেছে একটি চলন্ত হুন্ডাই i20 গাড়ির (Hyundai i20) পিছনের অংশে। লালকেল্লার সামনে পার্ক করা কোনও গাড়িতে বিস্ফোরণ (Blast) ঘটেনি। ঘটনাস্থলে কোনও গর্ত বা ‘ক্রেটার’-এরও অস্তিত্ব মেলেনি, যা সাধারণত উচ্চক্ষমতার বিস্ফোরণে দেখা যায়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) জানিয়েছেন, “লালকেল্লার কাছে ট্রাফিক সিগন্যালে ধীরগতির একটি i20 গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। দিল্লি ক্রাইম ব্রাঞ্চ, স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চ, এনএসজি, এনআইএ এবং এফএসএল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। আশপাশের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage) খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সবদিক খতিয়ে সম্পূর্ণ তদন্ত চালানো হবে।”
এ ঘটনায় অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়েছে, এবং একাধিক আহতকে গুরুতর অবস্থায় এলএনজেপি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। তদন্তকারীরা সম্ভাব্য সব সূত্র পরীক্ষা করে দেখছেন— এটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি, দাহ্য পদার্থের সংস্পর্শ, নাকি পরিকল্পিত হামলা— তা জানার চেষ্টা চলছে।
দিল্লিতে এমন বিস্ফোরণ ঘটায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে গোটা রাজধানীজুড়ে। পুলিশ আশপাশের সমস্ত যানবাহন ও নজরদারি ফুটেজ পরীক্ষা করছে, যাতে বিস্ফোরণের পেছনের প্রকৃত রহস্য জানা সম্ভব হয়।
কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) জমানায় প্রথমবার রাজধানী দিল্লিতে (Delhi) এই প্রথম এত বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। ঘটনাচক্রে এদিনই জম্মু ও কাশ্মীর ও হরিয়ানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ধরা পড়েছেন দুই চিকিৎসক এবং এক মহিলা চিকিৎসক। তাদের জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammad) ও আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দ (Ansar Ghazwat-ul-Hind)-এর আন্তর্জাতিক জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যুক্ত থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পুলিশ।
প্রথমে পাওয়া গেছিল ৩৬০ কেজি বিস্ফোরকের হদিস। কিন্তু তদন্ত এগোতেই জানা যায়, মোট ২ হাজার ৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে! ফরিদাবাদের আল ফালাহ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক ডা. মুজাম্মিল শাকিলের ভাড়া করা বাড়ি থেকেই এই বিস্ফোরক মজুত পাওয়া যায়। তিনি তিন মাস আগে বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন।
ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ফরিদাবাদের চিকিৎসক মুজাম্মিল, আরও এক কাশ্মীরি চিকিৎসক এবং এক ইমাম। খোঁজ মিলেছে এক মহিলা চিকিৎসকেরও, শাহিন নামে পরিচিত তিনি। তাঁর কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।