এটি 'হট অ্যান্ড হাই' (Hot and High) অর্থাৎ অত্যধিক গরম এবং উচ্চতায় উড়তে সক্ষম। যেখানে অনেক হেলিকপ্টার সমস্যা করে, সেখানে H125 সহজেই কাজ করতে পারে।

H125-কপ্টার
শেষ আপডেট: 18 February 2026 10:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের বিমান ও প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন ইতিহাস তৈরি হল। প্রথমবার বেসরকারি খাতে হেলিকপ্টারের যন্ত্রাংশ চূড়ান্ত পর্যায়ে অ্যাসেম্বেল করার কারখানা তৈরি হল ভারতের কর্নাটকে (Karnataka)। টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড ও ফরাসি সংস্থা এয়ারবাসের (Airbus H125 India) যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই আধুনিক কারখানার উদ্বোধন করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং (Defence Minister Rajnath Singh)। এটাই ভারতের প্রথম বেসরকারি ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন, যেখানে সম্পূর্ণভাবে হেলিকপ্টার জোড়া দেওয়া ও পরীক্ষার কাজ হবে ভারতেই- যা এখনও পর্যন্ত কোনওদিন হয়নি।
শুরুতে বছরে প্রায় ১০টি করে হেলিকপ্টার তৈরি হবে এই কারখানায়। ২০২৭ সালের প্রথম দিকেই একটি হেলিকপ্টার বের করা হবে বলেই আশাবাদী কেন্দ্র। আগামী ২০ বছরে ভারতের চাহিদা অনুযায়ী কমপক্ষে ৫০০টি হেলিকপ্টার তৈরি করা হবে। পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতির সুবিধাও রয়েছে এখানে, যা হাজার হাজার দক্ষ কর্মসংস্থান ও বহু স্থানীয় সরবরাহকারী সংস্থার জন্য সুযোগ তৈরি করবে।
ভেমাগালে তৈরি হবে 'এভারেস্ট বিজেতা' H125
এখানে (Vemagal helicopter factory) সংযোজন করা হবে এয়ারবাসের H125 হেলিকপ্টার, যেটি বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় সফলভাবে অবতরণ (H125 Everest landing) করে রেকর্ড গড়েছিল। এই এক ইঞ্জিনের হেলিকপ্টারে ১ জন পাইলট ও ৬ জন যাত্রী থাকতে পারেন (Everest-climbing H125 helicopters)। এর গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ কিমি এবং একটানা প্রায় ৬৬২ কিলোমিটার উড়তে পারে- যা বেঙ্গালুরু থেকে হায়দরাবাদ পর্যন্ত দূরত্বের সমান।
এই মডেলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এটি 'হট অ্যান্ড হাই' (Hot and High) অর্থাৎ অত্যধিক গরম এবং উচ্চতায় উড়তে সক্ষম। যেখানে অনেক হেলিকপ্টার সমস্যা করে, সেখানে H125 সহজেই কাজ করতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজ, চিকিৎসা, অগ্নিনির্বাপন, টহলদারি ও পর্যটন- সব ক্ষেত্রেই এটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।
সেনাবাহিনীর জন্য উন্নত সংস্করণ H125M
এই কারখানায় বেসামরিক H125-এর পাশাপাশি তৈরি হবে সামরিক সংস্করণ H125M। এটি আরও শক্তিশালী ও যুদ্ধ-উপযোগী, যেখানে রকেট, মিসাইল ও গানপড লাগানো যায়। খুব নিচু দিয়ে উড়ে শত্রুর নজর এড়ানোর ক্ষমতাও রয়েছে। বিশেষ রঙ ও উপকরণ ব্যবহার করা হয় যাতে শত্রু সেন্সরে হেলিকপ্টারের উপস্থিতি কম ধরা পড়ে। ডিজিটাল ককপিট ও উন্নত ক্যামেরা নজরদারি ও লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করতে সক্ষম— যা ভারতের উত্তর সীমান্তে তীব্র ঠান্ডা-উচ্চতার অঞ্চলে মোতায়েন বাহিনীর জন্য বিশেষ সুবিধা দেবে।
বিশ্বে জনপ্রিয় H125 সিরিজ
H125 প্রথম আকাশে উড়ে ১৯৭৪ সালে, আর H125M সামরিক ক্ষেত্রে যুক্ত হয় ১৯৯০ সালে। বর্তমানে বিশ্বের ৩৫টিরও বেশি দেশের প্রায় ৪৪টি সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত হয় এই হেলিকপ্টার। ফ্রান্স, ব্রাজিল, মেক্সিকো, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড এর বড় ব্যবহারকারী।