নয়াদিল্লির রাজনীতিতে একাংশ পর্যবেক্ষক মনে করছেন, নীতীশ কুমারকে (Nitish Kumar) উপরাষ্ট্রপতির পদে বসানোর পথ প্রশস্ত করতেই ধনকড়কে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

জগদীপ ধনকড়
শেষ আপডেট: 22 July 2025 15:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাস্থ্যজনিত কারণ দেখিয়ে দেশের উপরাষ্ট্রপতির (Vice President) পদ থেকে আকস্মিকভাবে ইস্তফা দিয়েছেন জগদীপ ধনকড় (Jagdeep Dhankar)। সোমবার সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই ৭৪ বছরের এই রাজনীতিবিদের পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। মাত্র ১২ দিন আগেই জেএনইউ-তে একটি অনুষ্ঠানে ধনকড় বলেছিলেন, “২০২৭ সালের অগাস্টে আমি অবসর নেব, যদি না ঈশ্বর অন্য কিছু স্থির করেন।” ফলে এমন আচমকা পদত্যাগে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা ও জল্পনা।
নয়াদিল্লির রাজনীতিতে একাংশ পর্যবেক্ষক মনে করছেন, নীতীশ কুমারকে (Nitish Kumar) উপরাষ্ট্রপতির পদে বসানোর পথ প্রশস্ত করতেই ধনকড়কে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। আসন্ন বিহার নির্বাচনে বিজেপি চাইছে আরও বড় অংশীদারি, সেই প্রেক্ষিতে নীতীশকে উপরাষ্ট্রপতির আসনে বসিয়ে তাঁকে সদয় রাখার প্রয়াস হিসেবেও দেখা হচ্ছে পদত্যাগকে। মঙ্গলবার বিজেপি বিধায়ক হরিভূষণ ঠাকুর বলেন, “নীতীশ কুমার যদি উপরাষ্ট্রপতি হন, তাহলে সেটা বিহারের পক্ষেই ভালো হবে।” এরই মধ্যে রাজ্যসভার সভাপতির অনুপস্থিতিতে ওই আসনের কার্যভার তুলে দেওয়া হয়েছে বিহার থেকেই উঠে আসা জেডিইউ নেতা হরিবংশ নারায়ণ সিংহের হাতে।
তবে এই জল্পনা দুর্বল বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ তা যদি হত, তাহলে উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে ধনকড়ের সরে যাওয়াটা এভাবে হত না। তিনি ইস্তফা দেওয়ার পর এই ‘বলিদানের’ জন্য নিশ্চয়ই শাসক দলের থেকে বিপুল তারিফ পেতেন তিনি।
রাজধানীর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে তাই মনে করছেন, ইস্তফার কারণ ভিন্ন। সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই ধনকড় ৬৮ জন বিরোধী সাংসদের সই করা একটি নোটিশ গ্রহণ করেন, যার মাধ্যমে বিচারপতি যশবন্ত বর্মার অপসারণ চাওয়া হয়েছিল। সেই সময় লোকসভায় সরকারপক্ষ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব আনছিল। তাই ধনকড়ের ‘তাৎক্ষণিকতা’তে ক্ষুব্ধ হয় সরকারপক্ষ, এমনটাই জল্পনা। রাজ্যসভার বিজনেস অ্যাডভাইসরি কমিটির (BAC) বৈঠকও এদিন ডাকেন ধনকড়, যেখানে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু উপস্থিত হননি। এটিও অনেকে অপমান হিসেবেই হয়তো দেখেছেন তিনি। এমনকি রাজ্যসভায় নাড্ডার একটি মন্তব্যও ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “রেকর্ডে কিছু যাবে না, শুধু আমার কথাই রেকর্ড হবে”—যা বিরোধীরা ধনকড়কে অপমান বলেই ব্যাখ্যা করছেন।
সর্বোপরি রয়েছে বিচার ব্যবস্খার সঙ্গে সংঘাত। ধনকড়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিচার ব্যবস্থার টানাপোড়েন চলছিল। উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি ‘ন্যায়বিচারে হস্তক্ষেপ’ নিয়ে বারবার আদালতের সমালোচনা করেছেন। এনজিএসি বিল বাতিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে তিনি প্রকাশ্যে আক্রমণ করেছিলেন। তাঁর এই উগ্র অবস্থান সরকারকেই নানা বিতর্কে ফেলেছিল বলে মত অনেকের। ফলে সরকারপক্ষ ধনকড়কে নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছিল—এমন ভাবনাও ঘুরছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
যধনকড়ের হৃদযন্ত্রের সমস্যা আগেও ছিল বলে জানা যায়, তবে এই সময়, এই মুহূর্তে, এমন চুপিসারে পদত্যাগ আরও বড় কিছু ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই রাজনৈতিক মহলের অভিমত। যেমন কংগ্রেস সাংসদ সুখদেব ভগতের কথায়, “রাজনীতিতে সব কিছু সোজাসুজি হয় না।”