শক্তি সরবরাহের প্রশ্নে আপস নয়। রাশিয়া (Russia) থেকে তেল-গ্যাস আমদানির কারণে ১০০ শতাংশ সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ন্যাটোর (Nato) মহাসচিব মার্ক রুটে।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 17 July 2025 23:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শক্তি সরবরাহের প্রশ্নে আপস নয়। রাশিয়া (Russia) থেকে তেল-গ্যাস আমদানির কারণে ১০০ শতাংশ সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ন্যাটোর (Nato) মহাসচিব মার্ক রুটে। কিন্তু তাতে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না ভারত (India)। বিদেশ মন্ত্রকের সাফ কথা, দেশের শক্তি নিরাপত্তা আগে, বাকি সব পরে।
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে (New Delhi) এক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হল দেশের শক্তি চাহিদা পূরণ করা। এই বিষয়ে বাজার পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিবেশ আমাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। সেই সঙ্গে আমরা পশ্চিমীদের এই নিয়ে দ্বিচারিতার বিরুদ্ধেও সতর্ক করছি।”
জয়সওয়ালের এই মন্তব্য রুটের হুঁশিয়ারির পরেই এসেছে। রুটে কড়া ভাষায় ভারত, চিন এবং ব্রাজিলকে রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেন চালিয়ে গেলে "গুরুতর অর্থনৈতিক শাস্তির" মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “আপনি যদি চিনের প্রেসিডেন্ট, ভারতের প্রধানমন্ত্রী বা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হন এবং রাশিয়া থেকে এখনও তেল ও গ্যাস কিনে চলেন, তাহলে জানবেন— যদি মস্কোর শাসক শান্তি আলোচনা গুরুত্ব সহকারে না নেন, তাহলে ১০০ শতাংশ সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা চাপানো হবে।”
তিনি আরও বলেন, “পুতিনকে ফোন করুন, বলুন শান্তি আলোচনায় গুরুত্ব দিন। নইলে এর ধাক্কা সরাসরি পড়বে ব্রাজিল, ভারত ও চিনের উপর।”
এর জবাবে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি রুটের মন্তব্যকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ভারত ইতিমধ্যেই সরবরাহ বহুমুখীকরণ করছে। গায়ানা, ব্রাজিল এবং কানাডার মতো দেশ থেকেও আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, চলতি সপ্তাহেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন— যদি রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না হয়, তাহলে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলিকে ১০০ শতাংশ সেকেন্ডারি ট্যারিফের মুখে পড়তে হবে।
কী এই ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা’?
সাধারণভাবে কোনও দেশের বিরুদ্ধে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা (primary sanctions) ছাড়াও, সেই দেশের সঙ্গে যেসব তৃতীয় পক্ষ লেনদেন করে, তাদের উপরেও নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়। এটাকেই সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা বলা হয়।
রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের শক্তি বাণিজ্য ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বেড়েছে। পশ্চিমী দেশগুলির চাপ সত্ত্বেও ভারত বরাবর বলে এসেছে দ্রব্যমূল্য, চাহিদা ও দেশের স্বার্থ বিচার করেই আমদানি চালানো হয়। সরকার মনে করছে, বিকল্প বাজার খোঁজা চললেও, বাস্তব পরিস্থিতিতে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিই এখনও ভারতের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ও লাভজনক।