প্রায় সাড়ে তিন বছর পর আলোচনার অবসান। ভারত এবং ব্রিটেনের মধ্যে বহুপ্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আগামী সপ্তাহেই স্বাক্ষরিত হতে চলেছে বলে খবর।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 July 2025 22:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় সাড়ে তিন বছর পর আলোচনার অবসান। ভারত এবং ব্রিটেনের (India-UK) মধ্যে বহুপ্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আগামী সপ্তাহেই স্বাক্ষরিত হতে চলেছে বলে খবর। ইতিমধ্যেই এই চুক্তির খসড়া আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
এই চুক্তির ফলে ভারতের চামড়া, জুতো, পোশাক, খেলনা, রত্ন ও গয়না শিল্পের রফতানিতে ব্রিটেনে আর শুল্ক দিতে হবে না। একই সঙ্গে ভারতীয় বাজারে ব্রিটিশ বিলাসবহুল গাড়ি এবং হুইস্কি আরও সস্তা হবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর, ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ২০৩০ সালের মধ্যে ১২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছনোর আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজিটাল, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মার্কেটিং-সহ একাধিক ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
যেসব পণ্যে প্রভাব পড়বে
দেশীয় মদের বাজারে প্রতিযোগিতা
বিশ্বের বৃহত্তম হুইস্কি বাজার ভারত। ফলে এই চুক্তি ব্রিটিশ হুইস্কিকে সস্তা করে তুলবে, যা দেশীয় প্রিমিয়াম মদ প্রস্তুতকারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
স্কচ হুইস্কি অ্যাসোসিয়েশনের সিইও মার্ক কেন্ট এই চুক্তিকে "ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী" বলে বর্ণনা করেছেন।
ভারতের লাভ কোথায়?
২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ভারত ব্রিটেনে ১২.৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। এই চুক্তি ভারতের ২০৩০ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে উন্নত বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়বে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতিক্রিয়া
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “বন্ধু প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে কথা বলে খুব খুশি হলাম। ভারত-ব্রিটেনের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং দ্বৈত অবদান চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এটি আমাদের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করবে।”
দ্বৈত অবদান চুক্তি কী?
দুই দেশের মধ্যে হওয়া এই চুক্তির ফলে কর্মরত ব্যক্তি বা সংস্থাকে আর দুই দেশে পৃথকভাবে সোশ্যাল সিকিউরিটি (পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ইত্যাদি)-তে অবদান রাখতে হবে না। ফলে কর্মচারীদের বেতন থেকে দ্বিগুণ কাটতি বন্ধ হবে।
চুক্তির ভবিষ্যৎ পথ
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর, এটি ব্রিটেনের সংসদ ও ভারতের মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাবে। সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে সময় লাগবে প্রায় এক বছর।
২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর আগে ভারত মরিশাস, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE), অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের (EFTA) সঙ্গে এফটিএএস স্বাক্ষর করেছে। এবার লক্ষ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি।