মাত্র দু লাইনের একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “শ্রী জগদীপ ধনকড়জি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে আমাদের দেশের সেবা করার বহু সুযোগ পেয়েছেন, যার মধ্যে ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতির পদও রয়েছে। তাঁর সুস্বাস্থ্যের কামনা করি”।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও জগদীপ ধনকড়
শেষ আপডেট: 22 July 2025 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার রাতে উপ রাষ্ট্রপতি পদ থেকে আচমকাই ইস্তফা দিয়েছেন জগদীপ ধনকড় (Jagdeep Dhankar)। স্বাধীন ভারতে যা বেনজির ঘটনা। কেননা এ যাবৎ কোনও উপ রাষ্ট্রপতিই মধ্যমেয়াদে হঠাৎ করে ইস্তফা দেননি। আর এরকম নাটকীয় ঘটনাও ঘটেনি। জগদীপ তাঁর ইস্তফার কারণ হিসাবে জানিয়েছেন যে তাঁর শরীর ভাল যাচ্ছে না। অথচ সেই ইস্তফাপত্র পাঠানোর আগে পর্যন্ত তিনি খুব স্বাভাবিক ভাবেই কাজকর্ম করেছেন। তাই তাঁর শরীর খারাপের যুক্তি অনেকেরই হজম হয়নি। বলতে গেলে কেউই তা সহজ ভাবে নিচ্ছেন না। বরং সন্দেহ আর রহস্যের চাদর যেন মুড়ে ফেলেছে গোটা পর্বকে। জগদীপ ধনকড়ের এই ইস্তফা নিয়ে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi on Jagdeep Dhankar) এক্স হ্যান্ডেলে যে পোস্ট করেছেন, তা যেন আরও সন্দেহ বাড়িয়েছে।
মাত্র দু লাইনের একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “শ্রী জগদীপ ধনকড়জি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে আমাদের দেশের সেবা করার বহু সুযোগ পেয়েছেন, যার মধ্যে ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতির পদও রয়েছে। তাঁর সুস্বাস্থ্যের কামনা করি”।
মোদী যেভাবে বলেছেন যে ‘বহু সুযোহ পেয়েছেন’, তাতেই সাউথ ব্লকের সঙ্গে ধনকড়ের সংঘাতের ইঙ্গিত লুকিয়ে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় একটু ব্যক্তিগত সম্পর্কের ছোঁয়া দিয়ে পোস্ট করাটাই দস্তুর। অর্থাৎ ব্যক্তিগত ভাবে ধনকড়ের সঙ্গে মোদীর সম্পর্ক কেমন ছিল। যা মোদী করেননি। খুবই সাদামাঠা পোস্ট করেছেন। তা ছাড়া অনেকে মনে করছেন ‘বহু সুযোগ পেয়েছেন’ বলার মধ্যে এই ভাবটা রয়েছে যে আপনাকে অনেক সুযোগ দেওয়া হয়েছে, এবার আসুন। ধনকড়ের সঙ্গে মোদী তথা সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় কোনও সংঘাত না হলে এ ধরনের কথা আসতে পারে না বলেই তাঁদের মত।
আরএসএস-বিজেপির ঘরানার রাজনীতিক ছিলেন না জগদীপ ধনকড়। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা জনতা দল দিয়ে শুরু। পরে কিছু সময় তিনি কংগ্রেসেও ছিলেন। তা ছাড়া চন্দ্রশেখর জমানায় সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ধনকড়। এহেন ধনকড় মোদী জমানায় প্রথমে আরএসএসের অনুগামী থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান। পরে বিজেপির সঙ্গে। তার পর মোদী-শাহর সৌজন্যে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদে নিয়োগ করা হয় তাঁকে। উপ রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হিসাবে তাঁকে বেছে নেওয়ার নেপথ্যেও আরএসএসের বিশেষ ভূমিকা ছিল না। সেটাও করেছেন মূলত মোদী-শাহ জুটি। পুরনো ছবি ঘাঁটলে দেখা যাবে, অমিত শাহর নির্দেশেই জগদীপ ধনকড়ের হয়ে দৌত্যে নেমেছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, উপ রাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান পদে হয়তো একজন ইয়েস ম্যান চেয়েছিলেন মোদী-শাহ। হতে পারে ধনকড় নিজের মতো রাজ্যসভা চালাতে যাওয়ার কারণেই সংঘাত তৈরি হয়েছে। গোটা বিষয়টা পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও কিছু যে একটা মতান্তর হয়েছে, তার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর পোস্টেও একপ্রকার পরিষ্কার।