পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে ভারত নিজস্ব রকেটে একজন মানুষকে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠাবে। শুভাংশুর অভিজ্ঞতা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

শুভাংশু শুক্লা
শেষ আপডেট: 2 August 2025 11:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০ দিনের ঐতিহাসিক মহাকাশ অভিযান শেষে প্রথমবার জনসমক্ষে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন ভারতের দ্বিতীয় মহাকাশচারী গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা (Shubhanshu Shukla)। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) দেওয়া ‘হোমওয়ার্ক’ সফলভাবে শেষ করে ফিরেছেন।
শুভাংশু শুক্লার কথায়, মহাকাশ যাত্রার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে একটি বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, মিশনের প্রতিটি দিক বিশদভাবে নথিবদ্ধ করতে, যাতে গগনযান প্রকল্পের প্রস্তুতিতে তা কাজে আসে। শুভাংশু বলছেন, “প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দায়িত্ব আমার স্পষ্ট মনে আছে। আমি তা যথাযথভাবে পালন করেছি। আমি নিশ্চিত, এই অভিজ্ঞতা আমাদের নিজের গগনযান মিশনের (Gaganyaan Mission) পক্ষে অত্যন্ত কার্যকর হবে।”
মিশনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত কী? প্রশ্নের উত্তরে শুভাংশু বলেন, “মহাকাশ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করার সময় পেছনে দেশের জাতীয় পতাকা (Indian Flag) ছিল। সেই দৃশ্যটা শুধু আবেগের নয়, এক ঐতিহাসিক বার্তাও বহন করে যে — এবার ভারত দর্শক নয়, সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।” তিনি আরও বলেন, “৪১ বছর পর ফের এক ভারতীয় মহাকাশে গেলেন। তবে এই যাত্রা একার নয় — এটা ভারতের জন্য একটি নবজাগরণ।”
এই সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি ভাগ করে দেন ইসরো, ভারতীয় বায়ুসেনা, নাসা, স্পেসএক্স এবং অ্যাক্সিয়ম স্পেসের টিমকে। একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “মহাকাশে যা অনুভব করেছি, তা বলে বোঝানো কোনও ভাবেই সম্ভব নয়।”
এই মহাকাশ যাত্রা তাঁর জীবনে এক নতুন লক্ষ্য এনে দিয়েছে বলেও জানান শুভাংশু। বলেন, “যা আশা করেছিলাম, তার চেয়েও অনেক বেশি পেয়েছি। তবে যেটা সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত ছিল — সেটা হল দেশের প্রতিটি কোণ থেকে আসা ভালোবাসা, বার্তা, আর উৎসাহ। এটা আমায় নতুন করে ভাবিয়েছে, একটা নতুন উদ্দেশ্য দিয়েছে।”
শেষে গগনযান প্রসঙ্গে শুভাংশু বলেন, এই মিশনের জন্য তিনি প্রস্তুত। নিজের মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে মহাকাশচারীর সাফ কথা, “ধাপে ধাপে শরীরের ভারসাম্য ফিরে আসে। এখন আমি একেবারেই স্বাভাবিক। আবার এক মিশনে যাওয়ার মতো প্রস্তুত মনে হচ্ছে নিজেকে।”
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে ভারত নিজস্ব রকেটে একজন মানুষকে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠাবে। শুভাংশুর অভিজ্ঞতা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। চিকিৎসা, মহাকাশযান পরিচালনা এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তির অনুপস্থিতিতে মানুষের কাজ করার ক্ষমতা, সবই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে গগনযান মিশনে।