
শেষ আপডেট: 5 December 2023 12:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশবাসীর করের ১৮ হাজার কোটিই জলে গেল। দু’হাজারের নোট বাজারে নিয়ে আসা নিয়ে একসময় তোলপাড় হয়। সেই ২০১৬ সালে নোট বাতিলের পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর সাধের ২ হাজারি নোট নিয়ে আসেন বাজারে। আর এই নোট ছাপাতেই হাজার হাজার কোটি টাকা বেরিয়ে যায়। আর মাত্র সাত বছরের মধ্যেই এই নোট তুলে নেওয়া হচ্ছে বাজার থেকে। ২ হাজারের নোট তো বিদায় নিচ্ছে, কিন্তু সমস্যা তৈরি হয়েছে অন্য জায়গায়। যাঁদের কাছে এখনও ২ হাজারের নোট আছে তাঁরা তাহলে কী করবেন?
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, জাল নোটে বাজার ছেয়ে গিয়েছে বলেই আচমকা নোট বাতিলের পদক্ষেপ। ২০১৬ সালের নোট বাতিলের সেই স্মৃতি ভোলার নয়। ৫০০ এবং ১ হাজার টাকার নোট বাতিল করা হয়েছিল। তার পরেই নোটের জোগান দিতে ২ হাজার টাকার নোট আনা হয়েছিল।
বিরোধীরা বলছেন, নোট বাতিলের পর থেকে কতই বা জাল নোট উদ্ধার হয়েছে, আর ক’জন অপরাধীকেই বা ধরা গেছে! মাঝখান থেকে দেশবাসীর করের ১৮ হাজার কোটিই জলে গেছে। ২ হাজারের নোট তুলে নেওয়া নিয়ে হইচই কিছু কম হচ্ছে না। বিরোধীরা খড়্গহস্ত হয়ে দাবি করেছেন, নোট যদি তুলেই নেওয়া হবে, তাহলে তা চালুর মানে কী? তবে এসবের মধ্যে বিপদে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ১৯ মে পর্যন্ত ৩.৬৫ লক্ষ কোটি টাকার ২ হাজারের নোট বাজারে ছিল। নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া পর থেকে প্রায় ৯৭ শতাংশ মূল্যের নোট সরকারের ঘরে ফেরত এসেছে। আরবিআই জানিয়েছিল নোট বিদায়ের আগেই তা জমা করতে হবে জনসাধারণকে। প্রথমে সময় দেওয়া হয়েছিল ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, পরে তা বাড়িয়ে ৭ অক্টোবর করা হয়। কিন্তু এখনও যদি ২ হাজারের নোট আপনার কাছে থাকে তাহলে কী করবেন?
দেশের ১৯টি আরবিআইয়ের অফিসে এই নোট বদল অথবা জমা দেওয়া যাবে। নিজে না আসতে পারলে ভারতীয় ডাকের মাধ্যমে আরবিআইয়ের অফিসে টাকা পাঠিয়ে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করার সুবিধাও দেওয়া হয়েছে। ২ হাজার টাকার নোট জমা বা ভাঙাতে গেলে কোনও পরিচয়পত্র বা ফর্ম পূরণ করতে হবে না। তবে যদি ২০ হাজার টাকার বেশি ২ হাজারের নোট জমা করতে চান তাহলে ‘রিকুইজিশন স্লিপ’ লাগবে। এক বারে ২০ হাজার টাকা অবধি ২ হাজারের নোট জমা করা যাবে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করতে হলে তার নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।
আরবিআই আরও জানিয়েছে, ২ হাজার টাকার নোট জমা করা বা ভাঙাতে গেলে কোনও আলাদা খরচ লাগবে না। নোট জমা বা সমমূল্যের অন্য নোট দেওয়ার জন্য ব্যাঙ্কগুলিকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে। গ্রাহকদের যাদের সমস্যা না হয় সেদিকটা বিশেষভাবে দেখতে বলা হয়েছে। যদি কোনও গ্রাহক সময়ের মধ্যে নোট জমা না করে থাকেন, তাহলেও ব্যাঙ্ককে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। কোনও ব্যাঙ্ক যদি ২ হাজারের নোট জমা নিতে অস্বীকার করে তাহলে অভিযোগ জানাতে পারবেন গ্রাহকরা।