স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এমন বিশৃঙ্খলা এই প্রথম নয়। দিনের পর দিন সকাল থেকে লাইনে দাঁড়ালেও অনেকেই খালি হাতে ফিরছেন।

ছবি - সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 23 June 2025 12:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছত্তীসগড়ের গারিয়াবন্দ জেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এক সরকারি রেশন দোকানে হঠাৎই চাঞ্চল্য ছড়াল রবিবার। দীর্ঘক্ষণ ধরে অপেক্ষা করা ভিড় ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরেও দোকান না খোলায় উত্তেজিত লোকজন লোহার গেট ভেঙে ঢুকে পড়েন দোকানের ভিতরে। মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হয় হুড়োহুড়ির পরিস্থিতি, যাতে আহত হন বেশ কয়েকজন।
ছত্তীসগড়ে রাজ্য সরকার সম্প্রতি তিন মাসের রেশন একসঙ্গে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেইমতো জেলার বিভিন্ন রেশন সেন্টারে রেশনভোগীদের ভিড় ক্রমাগত বাড়ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির অভাবে বারবার একই সমস্যা।
রবিবারের ঘটনায় দোকানের ভিতরে বিক্রেতা উপস্থিত থাকলেও দীর্ঘ সময় বন্ধই ছিল দোকান। ফলে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় অপেক্ষায় থাকা জনতার — যাঁদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন মহিলা, বয়স্ক ও শিশু। একসঙ্গে লোহার গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন তাঁরা। তখনই কিছু মানুষ নিচে পড়ে গিয়ে হালকা চোট পান।
ये हमारे देश की जनता है और ये छत्तीसगढ़ का गरियाबंद है, ऐसे गेट खुलते ही भागने को मजबूर हैं क्योंकि नई मशीन है, 3 महीने का राशन साथ मिलना है एक दिन में बमुश्किल 20-22 लोगों को राशन मिल रहा है pic.twitter.com/t4oCkYracN
— Anurag Dwary (@Anurag_Dwary) June 23, 2025
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এমন বিশৃঙ্খলা এই প্রথম নয়। দিনের পর দিন সকাল থেকে লাইনে দাঁড়ালেও অনেকেই খালি হাতে ফিরছেন। একজন জানান, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ওটিপি যাচাইয়ে সমস্যা, ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মেলা, আর বারবার সার্ভার ডাউন হয়ে যাওয়া। দিনে ২০-২৫ জনের বেশি রেশন পাচ্ছেন না।’
ঘটনার সময় দোকানে থাকা বিক্রেতা রমেশ নির্মলকর বলেন, ‘নতুন বায়োমেট্রিক মেশিনই দেরির আসল কারণ। একজনের রেশন পেতে তিনবার ওটিপি আর পাঁচ-ছয়বার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিতে লাগছে। কখনও ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে একজনের কাজ শেষ করতে।’
এদিন ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ এসে পৌঁছলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়, তবে জেলার অন্যান্য রেশন সেন্টারগুলিতেও একই ধরনের সমস্যা লেগেই রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে মানুষের ক্ষোভ ও সমস্যার পুনরাবৃত্তি বলছে, শুধু সাময়িক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় — চাই স্থায়ী সমাধান।