
শেষ আপডেট: 30 March 2025 16:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসারাম বাপুর বারবার জামিন পাওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ধর্ষিতা নাবালিকার বাবা। উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের ওই ব্যক্তির অভিযোগ, ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপু 'সকলকে ম্যানেজ করছেন' এবং তিনি ও তাঁর পরিবার এখন রীতিমতো ভয়ে ভয়ে বাঁচছেন। যে কোনও সময় কিছু ঘটে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর।
২০১৩ সালে রাজস্থানের যোধপুর আশ্রমে এক ১৬ বছর বয়সী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হন আসারাম। এরপর ২০১৮ সালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং পকসো ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।
তবে, বিভিন্ন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি একাধিকবার জামিন পেয়েছেন। সর্বশেষ ২৯ মার্চ, গত শুক্রবার গুজরাত হাইকোর্ট তাঁকে আরও তিন মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছে।
এই অবস্থা ধর্ষিতার বাবা জানান, আদালত বারবার এভাবে জামিন মঞ্জুর করে তাঁদের আরও নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, 'যখন আসারাম জেলে গেল, তখন মনে হয়েছিল আমরা জয়ী হয়েছি। এখন দেখছি ও সকলকেই ম্যানেজ করে নিয়েছে। প্রথমে ৭ দিন, তারপর ১২ দিন, তারপর আড়াই মাসের জন্য জামিন পেল। এবার আরও তিন মাসের জন্য জামিন দেওয়া হল। এভাবে আমার পরিবারের প্রাণ বিপন্ন হয়ে উঠেছে।'
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, তাঁদের আইনজীবী জামিনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাননি, যদিও সমস্ত নথি প্রস্তুত ছিল। তাঁর দাবি, 'আমরা কাগজে সই করে দিয়েছিলাম, কিন্তু আইনজীবী তা জমা দেননি। তিনি শুধু আমাদের ঘোরাতে লাগলেন, কিন্তু আদালতে আপত্তি জানালেন না। তিনিও আমাদের প্রতারিত করেছেন।'
আসারামের পক্ষে আইনজীবী শালিন মেহতা আদালতে জানান, ৮৬ বছর বয়সি আসারাম হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যায় ভুগছেন এবং তাঁর জন্য আয়ুর্বেদিক ‘পঞ্চকর্ম’ চিকিৎসাই একমাত্র সমাধান। আইনীবী দাবি করেন, এই চিকিৎসা বর্তমানে যোধপুরে শুরু হয়েছে এবং সম্পূর্ণ হতে আরও তিন মাস লাগবে।
ধর্ষিতার বাবা বলেন, 'আসারাম জামিন পেয়ে যোধপুর থেকে ইন্দোর, উজ্জয়িনী, সুরাত ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ভক্তদের সঙ্গে দেখা করছে। সব জায়গায় হইহই করে সম্বর্ধনা নিচ্ছে। তাহলে তার কীসের অসুখ? ...আমাদের পরিবার এখন শুধু ঈশ্বরের ওপর নির্ভরশীল। যে কোনও সময়ে আসারাম আমাদের ক্ষতি করতে পারে, প্রতিশোধ নিতে পারে।'
এমন পরিস্থিতিতে ধর্ষিতার পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে পুলিশ অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। শাহজাহানপুরের পুলিশ সুপার জানান, ধর্ষিতার বাড়ির সামনে একজন নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে, দু'জন সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মীও দেওয়া হয়েছে। পুরো বাড়ি সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। রাতে পুলিশি টহল বাড়ানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে গুজরাতের একটি আদালত আসারামকে আরও এক ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেছে। আমদাবাদের মোতেরার আশ্রমে এক মহিলা শিষ্যকে ধর্ষণের অপরাধে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।