উনিশ শতকের সমাজসংস্কারক রাজা রামমোহন রায়কে (Raja Rammohan Roy) এ বার সরাসরি ব্রিটিশদের “এজেন্ট” বলে আখ্যা দিলেন তিনি।

রামমোহন রায় ও মধ্যপ্রদেশের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী পারমার
শেষ আপডেট: 16 November 2025 15:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী ইন্দর সিং পারমারের (Inder Singh Parmar) মন্তব্যে ফের তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক। উনিশ শতকের সমাজসংস্কারক রাজা রামমোহন রায়কে (Raja Rammohan Roy) এ বার সরাসরি ব্রিটিশদের “এজেন্ট” বলে আখ্যা দিলেন তিনি।
অগর মালওয়ায় বিরসা মুন্ডার (Birsa Munda) জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে পারমারের দাবি, রামমোহন রায় ব্রিটিশদের খাতিরে ভারতীয় সমাজকে জাতিভেদে বিভক্ত করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ইংরেজি শিক্ষার হাত ধরে বাংলায় তখন ধর্মান্তরকরণের “দুষ্টচক্র” ছড়িয়ে পড়েছিল। “ব্রিটিশদের প্রভাবে বহু সমাজসংস্কারক পথভ্রষ্ট হয়েছিলেন,” বলেন পারমার। তাঁর কথায়, “বিরসা মুন্ডাই সেই চক্র ভেঙে সমাজ ও জনজাতি পরিচয়কে রক্ষা করেছিলেন।” যদিও চাপে বুঝে পরে সাফাই দিয়ে বলেছেন, 'মুখ ফসকে বলে ফেলেছিলাম।'
পারমারের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র ভূপেন্দ্র গুপ্তার প্রশ্ন, “সতীদাহ প্রথা বিলোপ কি তবে ব্রিটিশ দালালি?” তাঁর কটাক্ষ, “যারা সত্যিকার অর্থে দেশবিরোধী ইতিহাস রচনা করেছে, তারাই আজ রামমোহনদের টার্গেট করছে— এ লজ্জাজনক।”
এই প্রথম নয়। এর আগেও ইতিহাস সংক্রান্ত একাধিক মন্তব্যে শোরগোল ফেলেছেন পারমার। তিনি দাবি করেছিলেন, ভারতকে আবিষ্কার করেননি ভাস্কো দ্য গামা, বরং এক ব্যবসায়ী চন্দন নাকি প্রথম “ভারতকে খুঁজে পেয়েছিলেন”! বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “আমাদের ভুল ইতিহাস শেখানো হয়েছে।”
এ ছাড়াও তাঁর দফতর সরকারি–বেসরকারি কলেজগুলিকে সম্প্রতি নির্দেশ দেয়, লাইব্রেরিতে ৮৮টি নির্দিষ্ট বই রাখা বাধ্যতামূলক— যার অনেকগুলিই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ–সংযুক্ত লেখকদের। এর মধ্যে আরএসএস–এর প্রাক্তন পদাধিকারী সুরেশ সোনির তিনটি বইও রয়েছে।
স্কুলশিক্ষা দফতরের দায়িত্বে থাকাকালেও পারমারের মন্তব্যে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। তাঁর অভিযোগ ছিল, “দেশে যত ইতিহাস শেখানো হয়, সবই মিথ্যে।” তাঁর দাবি, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আগে–পরে “এজেন্ট” বসিয়ে দেশের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে, বিদেশি অভিযাত্রীদের নায়ক বানানো হয়েছে।
রাজা রামমোহন রায় বাঙালির ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম। বিদ্যাসাগর ও তাঁর জন্যই শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে পেরেছে শত শত বাঙালি। জমিদারের ছেলে হলেও বরাবর দরিদ্র মানুষদের প্রাণ কাঁদত তাঁর। রাজস্ব ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই চালিয়েছিলেন তিনি।
অন্ধত্ব, গোঁড়ামি, অশিক্ষা, কুপ্রথার বরাবর বিরোধিতা করেছেন রাজা রামমোহন রায়। একই সঙ্গে যুক্তিবাদ ও মানবতাবাদের পক্ষে ছিলেন। তিনিই প্রথম ব্রাহ্ম সমাজ বা ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন। বেদান্ত বা উপনিষদের ধারণার উপর ভিত্তি করে এই নতুন মতাদর্শ গড়ে উঠেছিল।
একদিকে যেমন সতীদাহ প্রথার রদ করেছিলেন, তেমনই অন্যদিকে ছিলেন ভারতীয়দের সমানাধিকারের পক্ষে। ইউরোপীয়রা নিজেদের বর্ণশ্রেষ্ঠ মনে করত। বরাবর সেই মানসিকতার প্রতিবাদ করেছেন রাজা রামমোহন রায়।