তাঁর সবচেয়ে বেশি নিশানায় ছিলেন বিজেপির উপমুখ্যমন্ত্রী ও বিহারের নেতা সম্রাট চৌধুরী। প্রশান্ত কিশোরের দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে চৌধুরী ও রাজ্য সভাপতি দিলীপ জৈসওয়ালকে সরাসরি আক্রমণ করেছিলেন আর কে সিং।

আর কে সিং
শেষ আপডেট: 15 November 2025 17:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার বিধানসভা নির্বাচনে (Bihar Election) এনডিএর বিপুল জয়ের পরদিনই দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (Suspend) করা হয়েছে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আর কে সিং (Ex Union Minister RK Singh) এবং দলের এমএলসি অশোক আগরওয়ালকে। তবে এই সিদ্ধান্তের পরই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন আর কে সিং (RK Singh)। সূত্রের খবর, আগামী দিনে তাঁকে বহিষ্কার (Sack) করার ভাবনায় ছিল বিজেপি। তার আগেই দল ছেড়ে দিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
আর কে সিংদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দলবিরোধী মন্তব্য ও আচরণে বারবার দলের ক্ষতি হয়েছে। কটিহারের মেয়র উষা আগরওয়ালকেও এই কারণে সাময়িক বরখাস্ত (Suspend) করা হয়েছে। রাজ্য বিজেপি দফতরের প্রধান অরবিন্দ শর্মা সকালে তিন নেতার কাছে শোকজ-সহ (Show Cause) বরখাস্তের নোটিস পাঠান। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয় - দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের আচরণে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ হচ্ছে, আর তা সংগঠনের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কেন তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে না, তা এক সপ্তাহের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে। গুঞ্জন ছিলই যে, এই বরখাস্ত কেবল ‘প্রক্রিয়া’, শেষ পর্যন্ত তিনজনই বহিষ্কৃত হবেন।
আর কে সিং: জয়ের পরেই রাজনীতির বাইরে
আরাহের প্রাক্তন সাংসদ ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আর কে সিং গত কয়েক মাস ধরে বিহারে এনডিএ নেতৃত্বকে প্রকাশ্যে জোরালো সমালোচনা করে আসছিলেন। ২০২৪ লোকসভা ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই তিনি বারবার প্রশ্ন তুলছিলেন দলের বিশেষ কিছু নেতার বিরুদ্ধে।
তাঁর সবচেয়ে বেশি নিশানায় ছিলেন বিজেপির উপমুখ্যমন্ত্রী ও বিহারের নেতা সম্রাট চৌধুরী (Samrat Choudhury)। প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishore) দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে চৌধুরী ও রাজ্য সভাপতি দিলীপ জৈসওয়ালকে সরাসরি আক্রমণ করেছিলেন আর কে সিং। তাঁদের বিরুদ্ধে ‘দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার’ অভিযোগ তোলেন, এমনকী মন্তব্য করেছিলেন - এদের ভোট দেওয়ার থেকে জলে ডুবে মরা ভাল।
তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন যে চৌধুরীকে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে জবাব দিতে হবে। একই সঙ্গে জেডিইউ-র (JDU) প্রভাবশালী নেতা অনন্ত সিং সম্পর্কেও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন। অথচ শেষ পর্যন্ত সম্রাট চৌধুরী এবং আর কে সিং - দুজনেই নিজেদের আসনে জয় পান। শনিবার বরখাস্তের চিঠি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আর কে সিং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন।
প্রসঙ্গত, বিহার নির্বাচনে (Bihar Election) এনডিএ (NDA) এবার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। ফল ঘোষণার দিনই ২০০–র বেশি আসনে এগিয়ে যায় জোট। সেই প্রেক্ষিতেই বিজেপির এই ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক মহল দেখছে দলীয় শৃঙ্খলা আরও শক্ত করার ইঙ্গিত হিসেবে। সংগঠনের শৃঙ্খলা ভাঙলে কোনও অবস্থাতেই যে রেয়াত হবে না, সেটাই বোঝাচ্ছে তারা।